হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থীদের সার্বভৌমত্বের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম না করতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বেইজিংয়ের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে ‘অগ্রহণযোগ্য’ চ্যালেঞ্জের ব্যাপারেও সতর্ক করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে চীনের অধীন হওয়ার ২০তম বার্ষিকী উদযাপনে হংকংয়ে জিনপিংয়ের অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে গনতন্ত্রপন্থীদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে চীনা প্রেসিডেন্ট এমন হুঁশিয়ারি দেন।
চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, হংকং এখন যেকোন সময়ের চেয়ে অধিক স্বাধীনতা ভোগ করে। কিন্তু চীনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার কোন উদ্যোগ বা মূল ভুখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে হংকংকে ব্যবহার করার চেষ্টা রেড লাইন অতিক্রম করার মতো কাজ। এসব কাজ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
কিন্তু এসব হুমকি সত্ত্বেও অনুষ্ঠানস্থলের কাছে গণতন্ত্রপন্থী এবং বেইজিংপন্থী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অনেককে আটক করা হয়েছে।
শনিবারের বিক্ষোভে গণতন্ত্রপন্থী পার্টি ডেমোসিসটো জানায়, পুলিশ তাদের ৫ জন এবং লিগ অব সোস্যাল ডেমোক্রেটস দলের ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। কথিত আমব্রেলা প্রোটেস্ট মুভমেন্টের নেতা জোশুয়া ওং-ও গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন।
বিবিসির হংকং প্রতিনিধি জুলিয়ানা লিউ বলেন, এটা গণতন্ত্রপন্থীদের রুটিন বিক্ষোভ ছিল। ওয়াঞ্চি জেলার স্কোয়ারে যেখানে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, সেখানে যাওয়ার জন্য লিগ অব সোস্যাল ডেমোক্র্যাটস এবং ডেমোসিসটোর নেতারা সমবেত হয়। এসময় হংকংয়ের জন্য ভোটাধিকার দাবি করে তারা। চীনের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা লিউ জিয়াওবোর মুক্তিও কামনা করে তারা।
কিন্তু কোন সতর্কতা ছাড়াই পুলিশ তাদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বিক্ষোভকারীদের মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। এরপর বেইজিংপন্থী সমর্থকদের দেখা যায় পতাকা নাড়াতে এবং উচ্চস্বরে দেশপ্রেমমূলক গান গাইতে।
এই সংঘর্ষের ঘটনা এক ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হয়। পুলিশ গণতন্ত্রপন্থীদের সমাবেশকে অবৈধ অ্যাখ্যা দিয়ে সরিয়ে দিলে সরিয়ে দিলে সংঘর্ষ থেমে যায়।
এর আগে শুক্রবার জিনপিংয়ের সৌজন্যে আয়োজিত ভোজসভা এবং অনুষ্ঠানের কনভেনশন সেন্টারে কঠোর নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সেখানে সমবেতরা ‘এক দলীয় কর্তৃত্বের অবসান’ চেয়ে স্লোগান দেয়।
২০১৩ সালের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এবারই প্রথম হংকং সফরে আসলেন শি জিনপিং। তিন বছর আগে গণতন্ত্রপন্থীদের তুমুল বিক্ষোভ-আন্দোলনে অঞ্চলটির অনেক অংশে কয়েক মাস ধরে অচলাবস্থা সৃষ্টির হয়েছিলো।
হংকংয়ে সার্বজনীন ভোটাধিকারের দাবি মানতে বেইজিংয়ের অস্বীকৃতি অনেক সময়ই অঞ্চলটিতে সহিংস অস্থিরতার সৃষ্টি করে। উচ্চমাত্রার স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রতিজ্ঞা থাকলেও চীন হংকংয়ের উদারনৈতিক রাজনীতির ঐতিহ্যকে অবমূল্যায়ন করায় উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।
১৯৯৭ সালে বৃটেন থেকে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তরের ২০তম বার্ষিকী উদযাপনের এই অনুষ্ঠানের পাশাপাশি হংকংয়ের মন্ত্রীসভার অন্যান্যদের সাথে অঞ্চলটির প্রথম নারী নেত্রী ক্যারি ল্যাম প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেন্ট্রাল হংকংয়ের গোল্ডেন বাউহিনিয়া স্কোয়ারে জাকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে হয়।







