রাশিয়ায় শনিবার থেকে বসতে যাওয়া ফিফা কনফেডারেশন্স কাপে অংশ নিচ্ছে ৮টি দেশ। সেন্ট পিটার্সবার্গের ক্রেসতোভস্কি স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক রাশিয়ার প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। কোচ স্তানিস্লাভ চেরচেসোভের দল স্বাগতিক রাশিয়া এবং বিশ্বকাপ জয়ী জার্মানি ছাড়া বাকি দেশগুলোও আসর জমিয়ে দেয়ার মত ফুটবল উপহার দিতে সক্ষম। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় বসতে যাওয়া বিশ্বকাপের পোশাকি মহড়াও এই টুর্নামেন্ট।
কনফেডারেশন্স কাপে রাশিয়া ও জার্মানি ছাড়া বাকি ছয় দল হল- ইউরো সেরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল, নিউজিল্যান্ড, মেক্সিকো, চিলি, অস্ট্রেলিয়া, ক্যামেরুন। সেন্ট পিটার্সবার্গ ছাড়া মস্কো, কাজান ও সোচি শহরের চারটি স্টেডিয়ামে হবে আসরের ম্যাচগুলো।
এক নজরে জেনে নেওয়া যাক নিজ নিজ উপমহাদেশে সেরা দলগুলো সম্পর্কে-
রাশিয়া:
আসর আয়োজনের আগেই মানবাধিকার কমিশনের বদনাম কুড়িয়েছে স্বাগতিকরা। স্টেডিয়াম তৈরি নিয়ে দুর্নীতি কিংবা প্রাপ্য মজুরি না দেয়া নিয়েও জল কম ঘোলা হয়নি। অবশ্য এতকিছু নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে খেলায় মনোযোগ দিতে চায় রাশিয়া। সিএসকে মস্কোর মিডফিল্ডার অ্যালেক্সান্ডার গোলোবিন স্বাগতিকদের সাফল্যের সাহস যোগাচ্ছেন। দারুণ ড্রিবলিংয়ের কারণে ইতিমধ্যে গোলোবিন পরিচিত ‘রাশিয়ান মেসি’ নামে। তার কাছে দারুণ কিছু প্রত্যাশা করছেন কোচ স্তানিস্লাভ চেরচেসোভ।
নিউজিল্যান্ড:
আসরের ‘আন্ডারডগ’ উপাধি নিয়েই মাঠে নামবে নিউজিল্যান্ড। যদিও ওশেনিয়া অঞ্চলের চ্যাম্পিয়নদের এটি চতুর্থ কনফেডারেশন্স কাপ। আর এই অভিজ্ঞতাই দলটিকে এগিয়ে রাখবে অন্য দলগুলো থেকে। অল হোয়াইটদের ইংলিশ কোচ অ্যান্থনি হাডসনের আশা এবার চমকে দেবে তার শিষ্যরা।
পর্তুগাল:
প্রথমবারের মত কনফেডারেশন্স কাপ খেলতে আসা পর্তুগালেরও স্বপ্ন দারুণ কিছু করে দেখানো। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আছেন সেরা ফর্মে। দেশের জার্সি গায়ে শেষ ৫ ম্যাচে ১১ গোল করেছেন সিআর সেভেন। তবে স্পেনে কর ফাঁকির মামলায় কিছুটা টালমাটাল রোনালদোর মনোজগত। যদিও জাতীয় দলের হয়ে তার খেলায় সেটির কোন প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছেন কোচ ফার্নানন্দো সান্তোস। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিটও পর্তুগিজরা।
মেক্সিকো:
অভিজ্ঞতায় এবার কনফেডারেশন্স কাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে মেক্সিকো। আসরে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে একমাত্র তাদেরই আছে কনফেডারেশন্স কাপ জেতার স্মৃতি। ১৯৯৯ সালের পর শিরোপা পুনরুদ্ধারের জন্য মেক্সিকো অনেকটাই তাকিয়ে থাকবে হাভিয়ের হার্নান্দেজের দিকে। চিচারিতোর পাশাপাশি হেক্টর হের্রেরারাও আছেন নিজেদের প্রমাণ করার জন্য।
জার্মানি:
বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা নিঃসন্দেহে এবারের আসরের টপ ফেভারিট। প্রীতি ম্যাচগুলোতে সাইডবেঞ্চের খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করে দেখেছেন কোচ জোয়াকিম লো। সবাই পাস করেছেন। ম্যানুয়াল ন্যুয়ার, ম্যাট হামলস, মেসুত ওজিল, টনি ক্রসরা আছেন দারুণ ফর্মে। বিশ্বকাপের পর এবার কনফেডারেশন্স কাপ ঘরে তুলতে বদ্ধপরিকর চ্যাম্পিয়নরা।
চিলি:
আর্জেন্টিনাকে পরপর দুআসরে কাঁদিয়ে সাউথ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব নিজেদের ঘরে তোলা চিলি কনফেডারেশন্স কাপের অন্যতম দাবিদার। পর্তুগালেরে মত চিলিরও এটি প্রথম অংশগ্রহণ। প্রথম আসরে নিজেদের সেরাটাই দিতে চায় লাতিন আমেরিকার চ্যাম্পিয়নরা। সেজন্য দলটি অনেকটাই চেয়ে থাকবে অ্যালেক্সিস সানচেজের দিকে। সাবেক বার্সা ফরোয়ার্ডের ঝাঁঝ ভালো করেই জানা মেসিদের। সানচেজ এবার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জানান দিতে চান কনফেডারেশন্স কাপেও।
অস্ট্রেলিয়া:
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের আশা টুর্নামেন্টে ভালো খেলা। পাশাপাশি বড় দলগুলোকেও ভড়কে দেয়ার ভালো সামর্থ্য আছে অজিদের। তারা কেবল উপভোগ করেই টুর্নামেন্ট শেষ করতে ইচ্ছুক নয়।
ক্যামেরুন:
আফ্রিকান সিংহদের সামর্থ্য নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। আসরের সবচেয়ে ‘আনপ্রেডিক্টেবল দল’ তারা। শেষ চারকে লক্ষ্য করে আসরে খেলতে যাচ্ছে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা। এনার্জিটিক ফুটবলের পসরা সাজানোর দারুণ সক্ষমতা আছে দলটির।









