আমাদের দেশের মানুষের চরিত্র হচ্ছে কাউকে ওপরে উঠতে দেখলে টেনে নিচে নামানোর, মিডিয়াও ওই লাইনেই আছে, বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। অস্ট্রিয়া সরকার বাংলাদেশের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মো. তৌহিদুল ইসলামকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর প্রসঙ্গে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার সকালে সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাও ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামে সুরমা নদীর উভয়পার খনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বলেন।
বর্তমানে সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. তৌহিদুল ইসলামের প্রশংসা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে (তৌহিদুল) যখন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ পরীক্ষা দেয়, ওইটাতেও সারা বাংলাদেশে ফার্স্ট হয়। তারপরে তার ব্যাচের ফার্স্ট বয় সে। অত্যন্ত ভালো, তুখোড় ছেলে। এখন ওরে টেনে কীভাবে নামানো যায়, এ জন্য তার মন্ত্রণালয়ের লোকজন, তারই বন্ধুবান্ধবরা কন্টিনিউয়াসলি চেষ্টা করে। তার (তৌহিদুল) শত্রু আছে। আর না হয় পত্রিকায় এগুলো গেল কীভাবে? হি ইজ অ্যা ভেরি গুড অফিসার। আমি যদ্দিন আছি, আই উইল ডিফেন্ড হিম।
২০১৩ সালে ইতালির মিলানে কনসাল জেনারেল হিসেবে কর্মরত থাকাকালে মো. তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত করে কিছু পায়নি বলেও জানিয়েছে। গত বছরের মাঝামাঝি থেকে ভিয়েনা মিশনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য আছে। এ পদে কূটনীতিক তৌহিদুলকে নিয়োগ প্রস্তাব করে ভিয়েনায় পাঠায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু সেখানকার সরকার তৌহিদুলকে গ্রহণ করতে রাজি হয়নি।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের দুর্গতি নিরসনে সুরমা নদী খনন শুরু হয়েছে। বন্যার প্লাবন ও নদী ভাঙ্গন রোধে এ পরিকল্পনা কাজে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
উদ্বোধনকালে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সঙ্গে উপজেলা পরিষদ ভবন উদ্বোধন করেন। পরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।
এ সময় স্থানীয় জনতা জুড়ি নদীতে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।







