তাইওয়ানের সঙ্গে সরাসরি কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই যুক্তরাষ্ট্রের। তবুও বিগত কয়েক বছর ধরে চীনের আগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে তাইওয়ানকে সমর্থন করে এসেছে ওয়াশিংটন। তবে এরই মাঝে এবার চীনের মাটিতে দাঁড়িয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বললেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা সমর্থন করে না আমেরিকা।
স্থানীয় সময় সোমবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই কথা জানান ব্লিঙ্কেন। যদিও এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একাধিকবার দাবি করেছেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তাহলে তারা তাইওয়ানের রক্ষার্থে এগিয়ে আসবে।
ব্লিঙ্কেন জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই চীন ও আমেরিকার বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কমে গিয়েছিল। তুচ্ছ বিষয়েও সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেটা ঠিক করার উদ্দেশ্যেই এই বৈঠক।
তিনি জানান, আমেরিকা ‘এক চীন’ নীতিতে বিশ্বাসী। তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে ওয়াশিংটন সমর্থন করে না। তবে তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের আগ্রাসী পদক্ষেপকেও সমর্থন করে না।
তিনি এসময় অভিযোগ করে বলেন, উচ্চপর্যায়ের কথোপকথন এড়িয়ে গেছে চীন।
ব্লিঙ্কেন বলেন, চীনের সঙ্গে সামরিক পর্যায়ে আলোচনার জন্য আবেদন জানিয়েছিল আমেরিকা। তবে চীন এই বিষয়ে কোনও কথা বলেনি।
বৈঠকে এই সময় শিনজিয়াং, তিব্বত এবং হংকংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, চীনে মার্কিন নাগরিকদের আটকে রাখার বিষয়টি ছাড়াও নর্থ কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
এসময় ব্লিঙ্কেনকে শি বলেন, একটি সুস্থ ও ভারসাম্যযুক্ত চীন-আমেরিকা সম্পর্ক প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সম্মান করে চীন এবং একই রকম সম্মান যুক্তরাষ্ট্রের থেকেও আশা করে।
প্রসঙ্গত, তাইওয়ান ইস্যুতে বারবারই সম্পর্ক বিগড়েছে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের। আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তার আগে সেদেশের অর্থনীতির দিকে নজর দিতে হবে বাইডেন প্রশাসনকে। মার্কিন অর্থনীতির প্রসার ঘটানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে চীন। আবার আগামী বছর তাইওয়ানেও নির্বাচন রয়েছে। বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই তাইওয়ান সংলগ্ন এলাকায় নিজেদের ক্ষমতা দেখিয়ে আসছে চীন। এমনকি বহুবার তাইওয়ানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে চীনা যুদ্ধবিমান। এই অবস্থায় চীন যদি তাইওয়ানের ওপর সত্যি সত্যি হামলা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আসলে কী হবে, তা নিয়ে কৌতুহলী সবাই।








