ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খুন হওয়া ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার স্বর্ণ পাচারের সাথে যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন, পুলিশের তদন্তকারী দল।
স্বর্ণ পাচারের জন্য অনেকেই তাকে ‘সোনার আনার’ বলেও ডাকেন। শুধু তাই নয়, অর্থ পাচার চক্রেরও মূলহোতা ছিলেন আনার দাবি, তদন্তকারী পুলিশ দলের। আনন্দবাজার পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে গত কয়েক বছর ধরে কয়েক জন বাংলাদেশি বিপুল টাকা ভারতে এনে তা বিনিয়োগ করেছেন স্বর্ণ পাচারের মতো বেআইনি কাজে। সেই টাকার কিছু অংশ অপরাধ জগতেও বিনিয়োগ করেছেন তারা।
সূত্র আরও জানায়, চিকিৎসা ক্ষেত্রকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে টাকা পাচারের পিছনে মূলহতা ছিল আনার।
সম্প্রতি ভারতের কলকাতার নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটে খুন করা হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক সাংসদ আনারকে। তবে এখন পর্যন্ত তার মরদেহ পাওয়া যায়নি না খুনের কোনো অস্ত্রও পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তদন্তকারী দল জানিয়েছে, জিহাদ হাওলাদার খুনের কথা স্বীকার করেছেন। খুনের অভিযোগ উঠেছে আজিমের বাল্যবন্ধু আখতারুজ্জামান ওরফে শাহিনের বিরুদ্ধে। শাহিনও স্বর্ণ পাচারে যুক্ত ছিল এবং সে আজিমের কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকা পেত। সেই টাকা আনার দিতে না পারায় তাকে খুন করেছে শাহিন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া রোগীরা কলকাতা ছাড়াও হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, দিল্লি ও মুম্বইয়ের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। বেসরকারি এই হাসপাতালগুলোতে ভারতীয়দের চিকিৎসার পুরো খরচ নগদে দেয়ার সুযোগ না থাকলেও, বাংলাদেশিদের সেই সুযোগ দেয়া হয়। কারণ, সে দেশের অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা ভারতে অচল। তাই সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা গত কয়েক বছর ধরে চিকিৎসার নামে কোটি কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এনেছে।
আনোয়ারুল আজিম আনার চলতি বছরের শুরুতে কলকাতায় এসে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। তিনি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরে তার মালপত্রের মধ্যে থেকে সেই প্রেসক্রিপশন পেয়েছেন পুলিশের তদন্তকারী দল। সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও তদন্তকারীরা খোঁজ-খবর করেছেন।








