সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে গল্প লিখেছেন অলীন বাসার। তার নতুন বই ধর্মব্যাধি বইয়ে স্থান পেয়েছে সেই গল্পগুলো। অসঙ্গতিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সুন্দরভাবে। কিছুটা মজা করে। ছোট ছোট বাক্যে। কল্পনা আর বাস্তবতার মিশ্রণ আছে এতে।
ধর্মব্যাধি বইয়ে আছে ১৭টি গল্প। প্রতিটি গল্পে আছে নতুন গল্প। একটার সাথে আর একটার মিল নেই। সবই এই সমাজের চিত্র। দৈনন্দিন জীবন যাপনে আমরা যা করতে চাই না, কিন্তু অহরহ করতেই থাকি, সেগুলোই বলার চেষ্টা করা হয়েছে গল্পগুলোতে।
প্রথম গল্পের নাম ‘ওয়িং স্কেল’। ব্যবসায়ী মুখোমুখি হন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার। স্বপ্নে দেখা সেই ঘটনার প্রতিফলন ঘটে বাস্তব জীবনে? পরের গল্প ‘ধর্মব্যাধি’। সমাজে ধর্মকে পুঁজি করে চলতে থাকা মানুষের খুব সামান্য একটা, খুবই ছোট একটা উদাহরণ দেওয়া হয়েছে এখানে।
সমাজে অবহেলিত নারীর অবহেলা পাওয়ার চিত্র আঁকা হয়েছে ‘দেবতার শিল্প’ গল্পে। ‘প্রতিমার খুঁত’ গল্পে নারী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বাবা মায়ের কঠিন শাসন শিশু মনে কেমন প্রভাব ফেলে তা তুলে ধরা হয়েছে ‘দোয়া’ গল্পে। এভাবে প্রতিটা গল্পে এখনকার ভিন্ন ভিন্ন চিত্র, পরিবেশ, পরিস্থিতি চোখে আঙুল দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ছোট বয়সেই ছোটদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে অলীন বাসার এর লেখা উৎসাহ যুগিয়েছে। তার আগের গল্পগুলোর প্রতিপাদ্য ছিল ‘ভয় নয় আনন্দ’। ভূত নিয়ে গল্প লিখলেও বাচ্চাদেরকে সে ভয় দেখায়নি। বরং আনন্দ দিয়েছে। ভূত ভয় না দেখিয়ে বন্ধু হয়ে উপকার করেছে।
তার রূপকথার গল্পগুলোও ছিল ভিন্ন ধরনের। এখন সব বয়সী মানুষের জন্য লিখছে অলীন। ২০১৫ সালে যখন অলীন বাসার এর প্রথম বই প্রকাশ হয় তখন সে প্রথম শ্রেণির ছাত্র। বয়স তখন সাত। আর গল্প লেখা শুরু ছয় বছর বয়স থেকে।শিশু-কিশোর ছাপিয়ে সকল পাঠকের জন্য এবার অলীন লিখেছেন ধর্মব্যাধি।
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৫ (২২ মে, ২০০৮, মঙ্গলবার) সাতক্ষীরায় জন্ম অলীন বাসারের। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ এর দুই দিনের সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং রয়টার্স এর ডিজিটাল জার্নালিজম কোর্স (অনলাইন) করেছে। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আইডিয়াল ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তিনি।
উপন্যাস, গল্প সংকলনসহ এপর্যন্ত তার ১৪টি বই প্রকাশ হয়েছে। অপ্রকাশিত গল্প এখনও শতাধিক। নতুন গোয়েন্দা সিরিজ লিখছেন। এগুলো এখনও প্রকাশ হয়নি।
বল্টুদের দেয়াল ঘড়ি (কিশোর উপন্যাস, বিশ্ব সাহিত্য ভবন, ২০২৪); নীল রত্নের রাজ্যে মিনু (কিশোর উপন্যাস, বিশ্ব সাহিত্য ভবন, ২০২৩); চক্র (পালক প্রকাশনি, ২০২২); পেটুক শিয়াল (ঘাসফড়িং প্রকাশনি, ২০২১); কালো ঘোড়া (পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স, ২০২০); বাঘের গর্জন (ঘাসফড়িং প্রকাশনি, ২০২০); বিড়াল পণ্ডিত (ঘাসফড়িং প্রকাশনি, ২০১৯); গোরস্তানে বিয়ে (সাম্প্রতিক প্রকাশনি, ২০১৯); পালোয়ানের হার (ঘাসফড়িং প্রকাশন, ২০১৮); ভূতের টিউশনি (জ্ঞান বিতান ২০১৮); ভুতুম (সাঁকোবাড়ি প্রকাশন, ২০১৭); ভুতুড়ে (সাঁকোবাড়ি প্রকাশন, ২০১৬) এবং অন্ধকারে ভূতের ছায়া (সাঁকোবাড়ি প্রকাশন, ২০১৫)।








