দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্তে নাম আসা এবং গুরুতর অনিয়মে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পরও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো জোনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বহাল রয়েছেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সাবেক নেতা মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি বড় নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়েছে।
জানা যায়, ২০২২ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ঢাকা মেট্রো জোনের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। এরপর গঠিত বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর কাফরুল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার কাজ সম্পূর্ণ না হলেও ঠিকাদারকে অগ্রিম বিল পরিশোধ করা হয়।
নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, ভবনটির দ্বিতীয় তলার ইটের গাঁথুনির কাজও শেষ হয়নি এবং তখনও চতুর্থ তলার ছাদ ঢালাই চলছিল। তদন্তে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন না করেই বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
চলতি বছরের ৩০ মার্চ জারি করা এক আদেশে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফকে সাভার থেকে ঢাকা মেট্রো জোনে বদলি করা হয়। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অভিযোগ, বর্তমানে আগারগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন প্রধান কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্পের প্রায় ১০০ কোটি টাকার দরপত্র মূল্যায়ন চলছে। এই প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে ঢাকা মেট্রো জোনে আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, সহকারী প্রকৌশলী থাকাকালেই আলিফের বিরুদ্ধে একাধিক বিভাগীয় মামলা ছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত সমপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার পদোন্নতি হওয়ায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।







