ক্ষণ ঘনিয়ে আসছে কাতার বিশ্বকাপের। বিশ্বসেরার মঞ্চে শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিতে প্রস্তুত হচ্ছে ৩২ দল। প্রস্তুত হচ্ছে সমর্থকরাও। মধ্যপ্রাচ্যের কড়া ধর্মীয় নীতিতে অবশ্য নানা বেকায়দায় পড়তে হবে দেশটি যেতে চাওয়া সমর্থকদের। একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করছে আয়োজক কমিটি। যার সবশেষ সংযোজন গ্যালারিতে বসে মদ্যপান করতে পারবেন না দর্শকরা।
এমনিতে প্রকাশ্যে মদ্যপান অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কাতারে। এদিকে আবার বিশ্বকাপ উপভোগ করতে আসা বিশ্বের নানা প্রান্তের অনেক দর্শকই ম্যাচ চলাকালীন অ্যালকোহল পান করে থাকেন। স্টেডিয়ামগুলোতে অতীতে হরদম মদ্যপান করতে দেখা গেছে দর্শকদের। এবার তাতে লাগাম টানতে যাচ্ছে কাতার।
মাঠে বসে মদ্যপানের কোনো সুযোগই থাকছে না দর্শকদের। তবে দেশটিতে আগত ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার পক্ষে কাতার। নির্দিষ্ট ‘জোন’ ও কারফিউ তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে আয়োজক দেশটি।
‘স্টেডিয়ামগুলোর পরিকল্পনা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বর্তমানে এটি নিয়ে আলোচনা চলছে যাতে ভক্তরা আগমন এবং প্রস্থানের সময় বিয়ার পান করতে পারেন। তবে স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালীন বিয়ার পরিবেশন করা হবে না। আগের বিশ্বকাপ ফ্যান জোনগুলোর মতো এখানে সারাদিন বিয়ার পরিবেশন করা হবে না, সীমিত সময়ের জন্য বিয়ার পান করার সুযোগ পাবেন আগ্রহীরা।’
২১ নভেম্বর পর্দা উঠবে কাতার বিশ্বকাপের। এবারই প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ। আনুমানিক ১.২ মিলিয়ন সমর্থকের ভ্রমণ প্রত্যাশা করছে দেশটি। যাদের আতিথেয়তায় কোনো ঘাটতি রাখতে চায় না আয়োজক কর্তৃপক্ষ। আবার হরেক ইসলামি আইন মানতে বাধ্যই করা হবে দর্শকদের।
স্টেডিয়াম এবং প্রধান ফ্যান জোন থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে দোহা গলফ ক্লাবের একটি অব্যবহৃত কোণে, ১৫ থেকে ২০ হাজার দর্শক অ্যালকোহল পান করার সুযোগ পাবেন। সামান্য সংখ্যক হোটেলের প্রবেশদ্বার এবং দূরবর্তী কুলিং স্টেশনের মধ্যে থেকেও অ্যালকোহল সংগ্রহ করতে পারবেন। তাতে আবার গুণতে হবে মোটা অঙ্কের অর্থ। ৬.৫৫ ডলারের এক পিন্টার বিয়ারের স্বাদ নিতে দর্শকদের গুণতে হতে পারে ১৮ ডলার।
ফুটবল স্টেডিয়ামে অবশ্য অ্যালকোহল বিক্রির নিয়ম বিশ্বজুড়েই আলাদা। ইংল্যান্ডে স্টেডিয়ামে অ্যালকোহল বিক্রি করা হলেও সেখানে পান করার সুযোগ পান না সমর্থকরা। পান করার অনুমতি নেই ফ্রান্সের স্টেডিয়ামেও। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে অবশ্য অ্যালকোহলে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। সেজন্য বিধিনিষেধে শিথিলতা আনা যায় কিনা এমনও ভাবছে আয়োজকরা।
‘ইতিমধ্যেই কাতারের বিভিন্ন হোটেল এবং বারগুলোতে অ্যালকোহল পাওয়া যাচ্ছে। আসরের সময় দর্শকদের জন্য টুর্নামেন্ট চলাকালীন অতিরিক্ত মনোনীত স্থানে অ্যালকোহল পাওয়া যাবে। যথাযথ সময়ে এ ব্যাপারে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে আয়োজক কমিটি।’







