চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে মোট ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা বা প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত চলতি অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এই ছয় মাসেই বিতরণ হয়েছে মোট লক্ষ্যের ৫৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর মোট নিট ঋণের অন্তত ২ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করে রেখেছে। তবে কৃষি খাতে অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পর্যায়ের এক বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের মোট জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৬ শতাংশ এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। অথচ প্রতিবছর গড়ে ঋণ বিতরণ ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও কৃষি খাত প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঋণ বিতরণের পাশাপাশি কৃষি খাতে ঋণ আদায়ের হারও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাত থেকে ২১ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকার ঋণ আদায় হয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। ফলে আদায় বেড়েছে ২ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। এর ফলে গত ডিসেম্বর শেষে কৃষি খাতে মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭২৩ কোটি টাকায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর নিট ঋণের মাত্র আড়াই শতাংশ কৃষিতে বিতরণের লক্ষ্য বর্তমান বাস্তবতা ও চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি খাতে আরও বেশি অর্থায়ন জরুরি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পর্যাপ্ত ঋণ না থাকায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, উন্নত বীজ-সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসের উদ্যোগ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষক ও কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও সচেতনতা বাড়াতে প্রকাশ্য ও দলগতভাবে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি ব্যাংক শাখার বাইরে এজেন্ট ব্যাংকিং, সাব-ব্রাঞ্চ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, এরিয়া অ্যাপ্রোচ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এমএফআই-লিংকেজ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিঋণ সম্প্রসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।







