দীর্ঘ ১৮ বছর পর কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে কৃষক মানিক মিয়া হত্যা মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রায়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সাত আসামির মধ্যে রায় ঘোষণার সময় ছয়জন উপস্থিত ছিলেন।
আসামিরা হলেন, মো. শফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, বাবুল মিয়া, লিঙ্কন, এমদাদুল হক, মাজেদুল হক ও রইসউদ্দিন। তাদের মধ্যে শফিকুল পলাতক রয়েছেন। তারা সবাই হোসেনপুরের সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবু নাছের ফারুক মুহাম্মদ সঞ্জু এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা যায়, আসামিদের সাথে একই গ্রামের মানিক মিয়াদের জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এসব নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার ঝগড়াবিবাদ হয়। পরে শালিস হলেও বিরোধ কমছিল না। ২০০৫ সালের ২ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে কৃষক মানিক কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের হাজিপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন।
আসামিরা তাকে কুপিয়ে মরাত্মকভাবে জখম করে। পরে মুর্মূষু অবস্থায় তাকে গফরগাঁও উপজেলা হাসপতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। নিহত মানিক মিয়া চরআলগী গ্রামের কলিম উদ্দিনের ছেলে।
ঘটনার দু’দিন পর ৪ নভেম্বর নিহতের বড় ভাই আনিছুর রহমান সাতজনের নাম উল্লেখ করে হোসেনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ১৮ বছর পর আজ এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক।
আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা আদালতে ন্যায় বিচার পাইনি। মাননীয় আদালত সাতজনকে যাবজ্জীবন দিয়েছে। আমরা যে সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেছি এতে আসামিরা খালাস পেত। আমরা হাইকোর্টে আপিল করব আশা করি সেখানে ন্যায় বিচার পাবো।







