আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ গড়েও পুরোপুরি চিন্তামুক্ত থাকতে পারেনি বাংলাদেশ। কেননা গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের উইকেট ছিল রানে ভরা। লাহোরে আফগানদের প্রতিরোধ জাগিয়েছিল শঙ্কা। তবে ৫২ রানে শেষের ৭ উইকেট তুলে নিয়ে বিজয়ের হাসি হেসেছে সাকিব আল হাসানের দল। দলগত নৈপুণ্যে পাওয়া ৮৯ রানের জয়ে সুপার ফোরে ওঠার পথ অনেকটাই পরিষ্কার টাইগারদের।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপে বাঁচা-মরার ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্ত’র জোড়া সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৩৩৪ রান সংগ্রহ করে টিম টাইগার্স। জবাবে নেমে তাসকিন-শরীফুলদের তোপে ৪৪.৩ ওভারে ২৪৫ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।
আফগানদের ব্যাটে পাঠিয়ে শুরুতেই চেপে ধরে তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম। দ্বিতীয় ওভারে বলে এসে দ্বিতীয় বলে রাহমানুল্লাহ গুরবাজকে লেগ বিফোরের ফাঁদে পেলেন শরীফুল। আম্প্যায়ার আউট না দিলে বাংলাদেশও রিভিউ নেয়নি। ফলে দুর্দান্ত একটি সুযোগ হারায় সাকিবের দল।
এক বল পরেই ফের গুরবাজকে লেগ বিফোরের ফাঁদে পেলেন টাইগার পেসার। এবার অবশ্য আম্পায়ার আউট দিয়ে দেন। আফগান ব্যাটার রিভিউ নিলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। গুরবাজ ফেরেন ৭ বলে ১ রান করে।
এরপর দলের চাপ কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ। পাওয়ার প্লেতে টাইগার বোলারদের দেখে শুনেই খেলেন তারা। পরে হাত খোলেন জাদরান। গ্যাপ বানিয়ে কয়েকটি বাউন্ডারিও তুলে নেন। দুই ব্যাটারের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে চাপ কাটিয়ে তোলে আফগানিস্তান।
১৮তম ওভারে তাসকিনের বলে বোল্ড হন ডানহাতি টপঅর্ডার ব্যাটার রহমত শাহ। ৩৩ রান করতে রহমত ৫৭ বল খেলেন। ৭৯ রানে ২ উইকেট হারায় শহিদীর দল। এর আগে অবশ্য ফিফটি তুলে নেন ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান।
রহমত শাহ ফেরার পর হাসমতউল্লাহ শহিদীকে সঙ্গী করে চাপ কাটিয়ে তুলছিলেন ইব্রাহিম। ২৮.৩ ওভারের হাসান মাহমুদের বলে আউট সাইড এজের শিকার হন ইব্রাহিম। দুর্দান্ত ড্রাইভ দিয়ে বল তালুবন্দী করে আফগান ওপেনারকে ফেরান মুশফিক।
পরে নাজিবুল্লাহ জাদরানকে নিয়ে ৬২ রানের জুটি গড়েন হাসমতউল্লাহ। ৩৬.১ ওভারে দলীয় ১৯৩ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন নাজিবুল্লাহ। ২৫ বলে ১৭ রান করেন তিনি। পরের ওভারেই শাহিদীকে ফেরান শরীফুল। ৬০ বলে ৫১ রান করেন আফগান অধিনায়ক।
৪০তম ওভারের শেষ বলে গুলবাদিন নাইবকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান শরীফুল। ১৩ বলে ১৫ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন আফগান অলরাউন্ডার।
৪০.২ ওভারে দলীয় ২১৪ রানে আফিফের তালুবন্দী হয়ে তাসকিনের দ্বিতীয় শিকার হন মোহম্মদ নবী। আফগান অলরাউন্ডার ফেরেন ৬ বলে ৩ রান। পরের ওভারেই অষ্টম উইকেট হারায় আফগানরা। বিজয়ের দুর্দান্ত থ্রুতে রান আউট হয়ে ফেরেন করিম জানাত।
এরপর মুজিব উর রহমানকে নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন রশিদ খান। ৪৪.১ ওভারে ২৪৪ রানে তাসকিন আহমেদের বলে হিট উইকেট হয়ে ফেরেন মুজিব। দুই বল পরেই রশিদ খানকে নিজের চতুর্থ শিকার বানিয়ে টাইগারদের জয় নিশ্চিত করেন তাসকিন।
৮.৩ ওভারে ৪৪ রান খরচায় তাসকিন নিয়েছেন ৪ উইকেট। ৯ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন শরীফুল। এছাড়া হাসান মাহমুদ ও মিরাজ নেন একটি উইকেট।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাটে নেমে বাংলাদেশের রদবদলের ওপেনিং জুটিতে নাঈম শেখের সঙ্গী ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুর্দান্ত সূচনা পায় সাকিবের দল। ৮ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে দলীয় ফিফটি পূর্ণ করে টিম টাইগার্স।
দশম ওভারের শেষ বলে দলীয় ৬০ রানে মুজিব উর রহমানের স্পিনে বোল্ড হন নাঈম। ৩২ বলে ৫টি চারে করেন ২৮ রান। পরের ওভারে গুলবাদিন নাঈবের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিডলঅর্ডারের অন্যতম ভরসা হৃদয় (০)।
পরে মিরাজ-শান্ত’র জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ১১৫ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ের সাহায্যে তিন অঙ্কে পৌঁছান মিরাজ। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ১৯৪ রানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে বিচ্ছেদ ঘটে ৪২.১ ওভারে। মুজিব উর রহমানের বলে এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান মিরাজ। ছক্কায় মারতে গিয়ে আঙুলে চোট লাগে তার। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফেরেন ১১৯ বলে ১১২ রান করে। মিরাজের ইনিংসে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কার মার।
৪৩তম ওভারের চতুর্থ বলে সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শান্ত। ১০১ বলে শতক ছোঁয়া ইনিংসে ৯টি চার ও ২ ছক্কা হাঁকান শান্ত। এর আগে গত মে মাসে চেমসফোর্ডে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির দেখা পান শান্ত।
ইনিংস আরও লম্বা করতে পারতেন শান্ত। ৪৫তম ওভারের তৃতীয় বলে আউট হন। এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বল মিস করেন। পেছনে ফিরতে গিয়ে পিছলে পড়েন ক্রিজে। ততক্ষণে স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটরক্ষক রাহমানুল্লাহ গুরবাজ। ১০৫ বলে ১০৪ রান করেন শান্ত।
এরপর মুশফিক ১৫ বলে ২৫ রান করে রান আউট হন। ৬ বলে ১১ করে রান আউট হন অভিষিক্ত শামীম হোসেন পাটোয়ারী। সাকিব আল হাসান ১৮ বলে ৩২ ও আফিফ হোসেন ৩ বলে ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।







