চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতভর অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় চবি উপাচার্যের কার্যালয়ে এ সম্মেলন আয়োজিত হয়। সভায় উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার গতকালের ঘটনায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেন।
ড. শিরীণ আখতার বলেন, গতকাল রাতে শাটল ট্রেনের দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে আমরা মেডিকেলে যাই। এরই মধ্যে জানতে পারি ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। কারা এর পেছনে দায়ী তা তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, কী করে যে ২০০ থেকে ৩০০ ছেলে-মেয়ে হাতে দা, কিরিচ পেল এবং ভিসির বাংলো, ক্লাব, পরিবহনে ভাঙচুর করলো তা আমাদের অবাক করেছে। এগুলো ছাত্রসুলভ আচরণ না।
মামলা কতজনের বিরুদ্ধে হয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘এগুলো জানি না। কিন্তু তিনটি মামলা করা হয়েছে। ভিসি বাসভবন ভাঙচুর, নিরাপত্তা অধিদপ্তর ভাঙচুর, গার্ড বা ভিসি হত্যাচেষ্টায় ‘এটেম্পট টু মার্ডার’ এই তিনটি বিষয়ে মামলা করা হয়েছে। আরও মামলা করা হবে।
এসময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে ভাঙচুর চললেও প্রশাসনের কেউ ক্যাম্পাসে কেন উপস্থিত ছিলেন না এ প্রশ্নের জবাবেও কোনো উত্তর দিতে পারেননি উপাচার্য।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য ড. বেনু কুমার দে, সিন্ডিকেট সদস্য ড.আবুল মনসুর, ড. খাইরুল ইসলাম, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হকসহ আরও অনেকে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাটল ক্যাম্পাস অভিমুখে আসার সময় ফতেয়াবাদ স্টেশনের কাছাকাছি ছাদে থাকা ১৬ জন শিক্ষার্থী গাছের ডালের সাথে বাড়ি খেয়ে আহত হন। পরে ট্রেনটি ক্যাম্পাসে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা ট্রেন থেকে জিরো পয়েন্টে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করে। তারা আগুন জ্বালিয়ে দেয় ট্রেনের বগি, জিরো পয়েন্টে ও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে। ভাঙচুর চলে জিরো পয়েন্ট পুলিশ বক্স, ভিসির বাসভবনে ও পরিবহন দপ্তরে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও ক্ষয়-ক্ষতির মোট হিসাব করতে পারেনি। সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ব্যবহৃত অর্ধশতাধিক বাস, মাইক্রো বাস, মিনি ট্রাক ভাঙচুর করা হয়েছে।







