বহু কষ্ট, বঞ্ছনা, তীর্যক মন্তব্য সহ্য করে এবং সাধারণ মানুষের আস্থার উপর নির্ভর করে যে একটি সিনেমা নির্মাণ করা যায়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তরুণ নির্মাতা যুবরাজ শামীম। টানা কয়েক মাস বস্তিতে থেকে সম্পূর্ণ করেছেন নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আদিম’। ছবিটি মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৪তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে মনোনীত হয়েছে।
ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে উৎসবটি। যেখানে যোগ দিতে রবিবার ভোর রাতে মস্কোতে পৌঁছান যুবরাজ শামীম। তার সহযাত্রী ‘আদিম’ এর নির্বাহী প্রযোজক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
নিজের বানানো প্রথম সিনেমা নিয়ে শুধু নয়, জীবনে প্রথমবার দেশের বাইরে পা রাখলেন যুবরাজ শামীম। মস্কো থেকে চ্যানেল আই অনলাইনকে নির্মাতা এই অনুভূতি ব্যক্ত করলেন এভাবে,‘রবিবার মস্কোতে পৌঁছানোর পর যে অভ্যর্থনা পেয়েছি, এই অনুভূতি বলে বোঝানোর মতো নয় বলে মনে হয় আমার। বেশ কয়েক ঘণ্টা টানা জার্নির পর যে ক্লান্তি ছিলো, সেটা যেন মস্কোতে পৌঁছানোর পর উধাও। সারাদিন মস্কোর অলিগলি ঘুরে বেড়িয়েছি। ‘আদিম’ এর উছিলায় নতুন একটা দেশ এবং কালচারের সঙ্গে পরিচিত হতে পারছি, এটা ভীষণ আনন্দের।’

২৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে ‘আদিম’ এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার ৩০ তারিখ (মঙ্গলবার)। তার আগের দিন (সোমবার) মস্কোর স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটায় রয়েছে সংবাদ সম্মেলন। যেখানে উৎসবে যোগ দেয়া রাশিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ‘আদিম’ সম্পর্কে কথা বলবেন যুবরাজ শামীম ও নির্বাহী প্রযোজক নুরুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলন নিয়ে কিছুটা ‘নার্ভাসনেস’ থাকলেও নির্মাতা বলেন, ‘আদিম’ আমাদের স্বপ্নের সিনেমা। যে সিনেমার উপর সওয়ার হয়ে প্রথমবার ভিনদেশে পা রাখার সৌভাগ্য হলো, তাই কিছুটা নার্ভাসনেস থাকলেও তা কাটিয়েই আমাদের জার্নির গল্পটাও সবাইকে জানাতে চাই। যুবরাজ জানালেন, সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিক ও ক্রিটিকসদের সঙ্গে আড্ডায়ও অংশ নিবেন তারা।
রবিবার উৎসবস্থলে গিয়ে ব্যাজ সংগ্রহ ও নানা আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পরিচিত হয়েছেন উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের একাধিক বিচারকের সাথে। ‘আদিম’ এর নির্মাতা পরিচয় জানার পর বিচারকদের কাছ থেকে যুবরাজ পেয়েছেন ভূয়সী প্রশংসা। যা তরুণ এই নির্মাতাকে মধুর বিড়ম্বনায় ফেলেছে, এমনটাই বলছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী ও ‘আদিম’ এর নির্বাহী প্রযোজক নুরুজ্জামান।
যুবরাজ এ বিষয়ে বলেন, রবিবার সিলেকশন কমিটির কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। বাংলাদেশের এবং অন্যান্য দেশের ছবি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। তারা বাংলাদেশের ছবি নিয়ে বেশ আশাবাদী। তাদের মুখে নিজের দেশের সিনেমার কথা শুনতে পেরে তখন সত্যিই মনে হচ্ছিলো, বিশ্ব চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের ছবি ধীরে ধীরে একটা জায়গা তৈরি করছে, এটা শুধু এখন কথার কথা নয়।
তবে যুবরাজ বিস্মিত হয়েছে রাশিয়ায় ‘আদিম’ এর রিভিউ ছাপা হওয়ার ঘটনায়! তিনি বলেন, অ্যালেক্সি বেজুবিকভ নামের একজন স্থানীয় ক্রিটিকস্ এর সঙ্গে কথা হয়েছে রবিবার। যিনি ইতোমধ্যে রাশিয়াতে ‘আদিম’ নিয়ে একটা রিভিউ লিখেছেন। আমিতো আর রাশিয়ান ভাষা বুঝি না। তবে উনি আদিম’র ব্যাপারে উৎসাহি হয়ে কথা বলেছেন, এটা সত্যিই আমার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতার। আর একজন জুরি, নাম নিনা। উনি বললেন- ‘তোমার ছবি দেখে আমার ম্যাক্সিম গোর্কির উপন্যাসের কথা মনে পড়ছে।’- এরকম কথায় সত্যিই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি।
নির্মাতা জানান, ‘মস্কো পৌঁছানোর পর যা হচ্ছে, সবই আমার কাছে নতুন অভিজ্ঞতার।’







