অ্যাডিলেডে ভারতের ছোঁড়া ১৮৫ রানের জবাবে ঝড় তুলেছিলেন লিটন দাস। ধারাবাহিক ব্যর্থ সৌম্য সরকারের জায়গায় ওপেনিংয়ে এসে পাওয়ার প্লের পুরো ফায়দা তুলে নেন। ২১ বলে টাইগার ড্যাশিং ওপেনার পান টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পঞ্চম দ্রুততম ফিফটি।
পরে বৃষ্টি বাধা আসে। দুর্দান্ত ছুটতে থাকা লিটনের ছন্দেও আসে বাধা! সেটা আর কাটিয়ে ওঠা হয়নি। ৭ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৬ তোলা টাইগাররা বৃষ্টি বিরতিতে হারায় মোমেন্টাম, শেষপর্যন্ত খুব কাছে গেলেও পরিসমাপ্তিটা টানতে পারেনি সাকিবের দল।
টাইগারদের জয়ের আশা নড়বড়ে হওয়ার শুরু লিটনের পিছলে যাওয়া থেকেই। দ্বিতীয়বার খেলা শুরুর দ্বিতীয় বলে রানআউট হয়ে ফেরেন তিনি। ২৭ বলে শেষ পর্যন্ত খেলে যান ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৬০ রানের ইনিংস।
সেমির সমীকরণের পথ টাইগারদের জন্য এখন কার্যত বন্ধই, কিছু অতি-মিরাকল হিসাব কিতাব ছাড়া। এরপরও একটা জয় দিয়ে আসর শেষ করার গুরুত্ব কমে না। পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার টুয়েলভের শেষ ম্যাচটিকে তাই পাখির চোখ করছেন লিটন। তুলির শেষ আঁচড়ে দলকে জয়ে রাঙিয়ে দিতে হচ্ছেন বদ্ধপরিকর।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে লিটন লিখেছেন, ‘জয়ের খুব কাছে এসেও আমরা হেরেছি। পরের ম্যাচেও চেষ্টার কমতি থাকবে না।’
বাস্তবতার বিচারে বাংলাদেশের সেমিতে খেলার আশা শেষ হয়ে গেছে। অবশ্য কাগজে-কলমের যে হিসাব এখনও সাকিবের দল লাইফ সাপোর্টে আছে বলা যায়। সেজন্য বহুকিছু ঘটতে হবে।
শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারানোই লাল-সবুজের দলের জন্য যথেষ্ট হবে না। মিলে যেতে হবে আরও কিছু। সাউথ আফ্রিকা যদি পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের কাছে হারে, তারা ৫ পয়েন্টেই থাকবে। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে হারলে পাকিস্তানের পয়েন্ট হবে ৪, জিতলে টাইগারদের পয়েন্ট হবে ৬।
বৃহস্পতিবার গ্রুপ ২-এর খেলায় মুখোমুখি হবে সাউথ আফ্রিকা ও পাকিস্তান। এ ম্যাচে বাস্তবতার নিরিখে পাকিস্তানের জয়কে অসম্ভব মনে না হলেও ডাচদের কাছে উড়তে থাকা প্রোটিয়ারা হারবে, সেটা না হারার আগ পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। অনেক অঘটনের জন্ম দেয়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেমিতে যাওয়ার পথকে তাই আপাতত পথহারাই বলা যায়!








