বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের আদানি পাওয়ার বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তির বিলিং ও খরচের গণনা পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। এই চুক্তির আওতায় আদানি পাওয়ার ভারতের গোধা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১,৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।
বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগ, আদানি পাওয়ার ভারত থেকে প্রাপ্ত কর-সুবিধা (ট্যাক্স বেনিফিট) আটকে রেখেছে, যা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের সামিল। তবে আদানি পক্ষ দাবি করছে, তারা চুক্তির সব ধারা মেনে চলেছে এবং বাংলাদেশকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আদানির কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১৪ টাকা ৮৭ পয়সা (প্রায় ০.১২২০ মার্কিন ডলার) পরিশোধ করেছে, যা অন্য ভারতীয় কোম্পানির তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি।
আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, তাদের পাওনা বিল সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার থেকে মাত্র ১৫ দিনের ট্যারিফের সমান হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হবে।’
অন্যদিকে, আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, তারা তাদের পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) অনুযায়ী বাংলাদেশকে নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।







