টাক সমস্যার (মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস) চিকিৎসায় ৩০ বছর পর বড় অগ্রগতি এনেছে বিজ্ঞানীরা। ব্রণ চিকিৎসার জন্য পাঁচ বছর আগে অনুমোদন পাওয়া ওষুধ ‘ক্লাসকোটেরন’ এখন মাথার টাক নিরাময়ে বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে দাবি করেছে আয়ারল্যান্ডভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি কসমো ফার্মাসিউটিক্যালস।
আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী জিওভানি ডি নাপোলি জানান, ক্লাসকোটেরন ৫ শতাংশ টপিক্যাল সল্যুশন নিরাপদ ও সহনীয় প্রমাণিত হয়েছে। তার ভাষায়, এটি নতুন যুগের চুল ঝরা চিকিৎসার পথ খুলে দেবে।
বুধবার প্রকাশিত দুটি ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা গেছে, ওষুধটি পুরুষদের চুল পুনরুদ্ধারে ৫০০ শতাংশেরও বেশি উন্নতি দেখিয়েছে। পরীক্ষায় ১ হাজার ৫০০ জন পুরুষকে দুই দলে ভাগ করা হয়। একটি দলকে প্লাসিবো এবং আরেকটিকে ক্লাসকোটেরন দেওয়া হয়। প্রথম ট্রায়ালে চুল বৃদ্ধির উন্নতি পাওয়া যায় ৫৩৯ শতাংশ, আর দ্বিতীয় ট্রায়ালে ১৬৮ শতাংশ।
যদি সবকিছু ঠিক থাকে, তবে ২০২৬ সালে এই ওষুধের জন্য মার্কিন এফডিএ অনুমোদন মিলতে পারে। এর ফলে তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মেল প্যাটার্ন বল্ডনেসের জন্য কার্যকর প্রেসক্রিপশন ওষুধ বাজারে আসবে। উল্লেখ্য, ক্লাসকোটেরন ২০২০ সালে ব্রণ চিকিৎসার জন্য এফডিএ অনুমোদন পেয়েছিল।
মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস বা অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছরের তরুণদের বেশি আক্রান্ত করে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুসারে, এটি সাতটি ধাপে অগ্রসর হয়—
প্রথম ধাপে- দৃশ্যমান চুলমাত্রার তেমন পরিবর্তন নেই
দ্বিতীয় ধাপে- কপাল ও কানপাশে চুল পাতলা হতে শুরু করে
তৃতীয় ধাপে- ‘এম’ বা ‘ইউ’ আকৃতির হেয়ারলাইন দেখা যায়
চতুর্থ ধাপে- মাথার ওপরের অংশে (ক্রাউন) চুল কমতে থাকে
পঞ্চম ধাপে- সামনে ও ক্রাউনের টাক অংশ একসাথে মিলতে শুরু
ষষ্ঠ ধাপে- মাথার সামনের অংশ ও ক্রাউনে চুল প্রায় নেই
সপ্তম ধাপে- মাথার ওপরে পুরোপুরি টাক, চারপাশে অল্প চুল থাকে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এফডিএ অনুমোদন মিললে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের টাক সমস্যা নিরাময়ে নতুন আশার দ্বার খুলবে। বহুদিন ধরে ব্যয়বহুল কিন্তু অকার্যকর চিকিৎসায় হতাশ রোগীরা তুলনামূলক নিরাপদ ও প্রমাণিত একটি বিকল্প পেতে পারেন। চুল পড়া রোধে কার্যকর সমাধানের অপেক্ষায় থাকা মানুষের জন্য এটি হতে পারে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুখবর।







