সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদকের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে পাওয়া এসব অভিযোগের তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের পরপরই একে একে তার দলীয় নেতাকর্মীদের সীমাহীন দুর্নীতি আর অনিয়মের তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। ক্ষমতার পট-পরিবর্তনের পরই সরব হয়ে উঠেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আওয়ামী লীগ নেতা, বিভিন্ন এমপি, মন্ত্রী ও প্রভাবশালীদের দুর্নীতি তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি। যদিও এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে দুদকে লাল ফিতায় বন্দি ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারে বিভিন্ন মহলের তদবির আর চাপের কারণে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। তবে সরকার পতনের পর এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তে নেমেছে দুদক। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার আওয়ামী লীগ সরকারের ৪১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।
এর আগে গত রোববার দুদক চেয়ারম্যানের কাছে অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি হওয়া ৪১ জন এমপি, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর তালিকা এবং সম্পদ বৃদ্ধির পরিসংখ্যান দিয়ে অনুসন্ধানের আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন। গতকাল দুদকের যাচাইবাছাই কমিটিতে ৪১ এমপি-মন্ত্রীর সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়।
দুদকের তালিকায় সাবেক যেসব মন্ত্রীর নাম রয়েছে, তারা হলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শিক্ষামন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক, সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, শিল্পপ্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমান।
এরআগে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে প্রকল্পের নামে এই খাতে কী পরিমাণ অর্থ লোপাট হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্প্রতি গঠন করা এই কমিটির প্রধান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুর রহমান। কমিটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং এই বিভাগের অধীন সংস্থার ২০০৯ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাস্তবায়িত এবং বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের সামগ্রিক মূল্যায়ন করবে।
এ বিষয়ে মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আইসিটি বিভাগের আওতায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনেক প্রকল্প নিয়েছেন। সব প্রকল্পের তথ্য আমরা চেয়েছি। এসব প্রকল্প আমরা খতিয়ে দেখব, কোথাও সমস্যা ও দুর্নীতি হয়েছে কি না। প্রকল্পের আওতায় পরামর্শকসহ কিছু অপ্রয়োজনীয় খাতও দেখানো হয়েছে, সেগুলোও দেখব। এককথায়, প্রকল্পের সব বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করব।’








