কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে সার আমদানির নামে সরকারি অর্থ লুটপাট, নিম্নমানের ও ভেজাল সার আমদানি, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি)’র মাধ্যমে অর্থ পাচার, সরকারি অর্থ লুটপাট, দুর্নীতিসহ গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মো. মোবারক হোসেন নামে একজন ব্যবসায়ী দাখিল করা এক অভিযোগ পত্রে এই সব তথ্য পাওয়া যায়।
অভিযোগ রয়েছে, বিএডিসি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা সরকারি চুক্তির নিয়ম ভঙ্গ করে এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।
জি-টু-জি চুক্তি অনুযায়ী শুধুমাত্র সেই দেশের সরকারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সার আমদানির কথা থাকলেও, ২০২৫ সালের চুক্তিতে বিএডিসি চীনের সব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করে।
এছাড়া চুক্তি সংশোধনের আগে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং না নিয়েই কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএডিসি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ডিএপি সারের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য কম থাকার সময় শিপমেন্ট না করে দাম বাড়ার পর তা শুরু করা হয়।
২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের চুক্তিতে দাম নির্ধারণের সময়ও নিয়মভঙ্গ করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকা অবস্থায় শিপমেন্ট বিলম্বিত করে, দাম বাড়ার সময় শিপমেন্ট শুরু করা হয়। বিশেষ করে চীনের তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ লটে নির্ধারিত সময়ের বাইরে সার আমদানি করে প্রতি মেট্রিক টনে ১২.৫০ থেকে ১৬.২৫ মার্কিন ডলার বেশি দাম দেখানো হয়, ফলে কয়েক কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয় সরকারের।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ক্রয় উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদিত লে-ক্যান পরিবর্তনের পরও বিএডিসি সংশোধিত অনুমোদন নেয়নি এবং নির্ধারিত মূল্যের বাইরে চুক্তি বাস্তবায়ন করেছে। এসব কারসাজির মাধ্যমে এলসি লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. খোরশেদ আলমকে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে এসএমএস পাঠানো হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার সাড়া পাওয়া যায়নি।








