বান্ধবীকে উত্ত্যক্তের জেরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও শহীদ রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপে দুই হলের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে উভয় হলের ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে তিনটার দিকে এ সংঘর্ষ ঘটে।
গুরুতর আহতরা হলেন— দর্শন বিভাগের রবিউল ইসলাম (৪৫ ব্যাচ), ইতিহাস বিভাগের নাফিস ইকবাল (৪৮), প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাফায়েত জামিল (৪৯), পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের রিয়াদ হোসেন (৪৯), ফার্মেসী বিভাগের নিপাতুল ইসলাম নিরব (৪৯), ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মেহরাব হোসেন (৫১), আইন ও বিচার বিভাগের নিশাদ (৪৯), ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ইশতিয়াক (৫১), সরকার ও রাজনীতি বিভাগের জাহিদুল ইসলাম (৫০) এবং সাকিব (৫১)। তাদের মধ্যে রবিউল, নাফিস, জামিল, রিয়াদ, নিরব, ও মেহরাব সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা সবাই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই ইতিহাস বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক ছাত্র কাজী মহিউদ্দীন মিরাজ ও তার বান্ধবী সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫১ ব্যাচের ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি দোকানের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন। এসময় ইংরেজি বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং শহীদ রফিক-জব্বার হলের আবাসিক ছাত্র মোহাম্মদ রাফি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী মিরাজের বান্ধবীকে উত্যক্ত করেন। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় মিরাজ তার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের বন্ধুদের নিয়ে রাফিকে দুই হলের মধ্যবর্তী জায়গা রবীন্দ্র চত্বরে ডাকেন। পরে রাফি তার রফিক জব্বার হলের বন্ধুদের নিয়ে রবীন্দ্র চত্বরে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার জের ধরে রাত তিনটার দিকে রবীন্দ্র চত্বরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্র জামিল ও নিরবকে মারধর করে রফিক জব্বার হলের শিক্ষার্থীরা। পরে তা উভয় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয়।
সংঘর্ষ শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এবং দুই হলের প্রাধ্যক্ষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলে ফিরে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. মিরাজ বলেন, গত বুধবার রাতে রফিক-জব্বার হলের কয়েক শিক্ষার্থী তার বান্ধবীকে উত্ত্যক্ত করেন। শুক্রবার রাতে তাদের মধ্যে রাফি নামের একজনকে হলের বন্ধুদের সঙ্গে রবীন্দ্র চত্বরে দেখতে পান। এ সময় উত্যক্তের ঘটনার কথা জানতে চাইলে রফিক-জব্বার হলের কয়েকজনের সঙ্গে তাদের কয়েকজনের হাতাহাতি হয়। পরে দুই হলের সিনিয়ররা এসে বিষয়টি সমাধান করে দেন। কিন্তু হঠাৎ রাত সাড়ে তিনটার দিকে রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থীরা তাদের উপর হামলা চালান।
রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থী মো. রাফি বলেন, ‘আমি মিরাজ ও তার বান্ধবীকে আগ থেকে চিনতাম না। আমি ওর বান্ধবীকে উত্যক্ত করিনি। দেখা করার কথা বলে আমাকে ওরা এলোপাতাড়ি মেরেছে।’
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন উভয় হলের প্রাধ্যক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন, যে ঘটনাটি ঘটেছে তা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। অন্য একটি জায়গার ঘটনা এখানে টেনে আনায় এত বড় ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানাই। যারা ছাত্রসুলভ আচরণ করছে না তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিচার হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রনি হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় আমরা একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দেব। এছাড়া ঘটনার অধিকতর তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







