বাউল সম্রাট শাহ্ আবদুল করিমের ১০৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে উজান ধল মাঠে ২০ তম ‘শাহ্ আবদুল করিম লোক উৎসব’ আজ (রোববার) ভোরে শেষ হয়েছে।
শুক্রবার ও শনিবার সারারাত অনুষ্ঠিত হয়েছে এই লোক উৎসব ও বাউল গানের আসর। উৎসবের আয়োজন করে শাহ্ আবদুল করিম পরিষদ ও ধল গ্রামবাসী।
প্রকৃতি প্রস্তুত বসন্তকে বরণ করে নিতে। হিমেল বাতাস, গাছে গাছে রঙিন ফুল, পাখিদের গান আর সাথে শাহ্ আবদুল করিমের সেই চেনা সুর-‘বসন্ত বাতাসে, সই গো, বসন্ত বাতাসে বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ, আমার বাড়ি আসে, সই গো, বসন্ত বাতাসে’ বসন্তকে আরও রঙিন করতে ‘শাহ্ আবদুল করিম লোক উৎসব-২০২৫’- এ এভাবেই আমন্ত্রণ করেছিলেন আয়োজকরা, তাতে সাড়াও মিলেছে অভূতপূর্ব!
বাউল সম্রাটের একমাত্র পুত্র ও উৎসব পরিষদের সভাপতি শাহ্ নূর জালাল এই প্রতিবেদককে বলেন, উৎসবের বিশেষত্ব হলো এটি রাতে শুরু হয়। গত শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া এ উৎসব আজ (রোববার) ভোর রাত পর্যন্ত চলেছে। দিরাইসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে শাহ্ আবদুল করিমের ভক্ত ও বাউলরা এ লোক উৎসবে যোগ দেন। উৎসবে তাঁর শিষ্য অনুরাগী স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে জনপ্রিয় শিল্পীরা মরমী করিমের গান পরিবেশন করেন।
শাহ্ আবদুল করিমের গানের প্রতিটি কথায় ফুটে উঠেছে ভাটি বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার কথা। আবার তিনি কলম ধরেছেন কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে। ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে গান লিখতে গিয়ে অনেক সময় তিনি আক্রোশের শিকারও হয়েছেন। একারণে তিনি অত্যাচারিত হয়ে গ্রামও ছেড়েছেন, কিন্তু গান ছাড়েননি। আবদুল করিমের সঙ্গীত চর্চায় মরমী, বিচ্ছেদী গানের মধ্যে ভাটি গ্রামের সাবলীল ভাষায় সমাজের বৈষম্যের কথা উচ্চারিত করেছেন।
উজান ধলে কালনী নদীর পাশে বসে বাউল সম্রাট লিখেছিলেন, ‘বন্ধে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে, দেওয়ানা বানাইছে, কি যাদু করিয়া বন্ধে মায়া লাগাইছে’ এই মায়া আর প্রেমে সব মানুষ মত্ত হলেই পৃথিবীটা সুন্দর হয়ে উঠবে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ইলিয়াস মিয়া শুক্রবার রাতে উৎসব উদ্বোধন করেন। শাহ্ আবদুল করিম পরিষদের সভাপতি শাহ্ আবদুল করিমের পুত্র শাহ্ নূর জালালের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিকাশের কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মো. মনিরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব সরকার ও তাড়ল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আহমদ।
উৎসবে সহযোগিতা করেছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ।










