ডুরো নদীর শান্ত জল আর ঐতিহাসিক পোর্তো শহরের আকাশ জুড়ে এখন শুধুই গতির গর্জন আর চোখ ধাঁধানো অ্যাক্রোবেটিক্সের রোমাঞ্চ। পর্তুগালের অন্যতম সুন্দর শহর পোর্তোতে শুরু হয়েছে বিশ্বখ্যাত এভিয়েশন উৎসব ‘এয়ার ইনভিক্টাস ২০২৬।
প্রতিবছরের মতো এবারও এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো পর্যটকদের মাঝে তৈরি হয়েছে বিপুল উদ্দীপনা।
এবারের ‘এয়ার ইনভিক্টাস ২০২৬ এর মূল আকর্ষণ হলো বিশ্বের সেরা ফাইটার জেট এবং অ্যারোবেটিক দলের শ্বাসরুদ্ধকর পারফরম্যান্স। আলতো বাতাসে ডানা মেলে পর্তুগিজ বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো যখন আকাশে নিখুঁত ফরমেশন তৈরি করছিল, তখন উপস্থিত দর্শকদের করতালি আর উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ডুরো নদীর তীর।
বিশেষ করে, সুউচ্চ আকাশ থেকে খাড়া নিচের দিকে নেমে আসা এবং মাঝ-আকাশে বিমানের অবিশ্বাস্য সব ডিগবাজি (লুপ ও রোল) উপস্থিত সবাইকে বিমোহিত করে।
কেবল বিনোদনই নয়, এবারের উৎসবে জোর দেওয়া হয়েছে এভিয়েশন খাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনের ওপর। ‘এয়ার ইনভিক্টাস ২০২৬’-এর মেলা প্রাঙ্গণে প্রদর্শন করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি (সাসটেইনেবল এভিয়েশন ফুয়েল) এবং ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক বিমানের (ইলেক্ট্রিক এয়ারক্র্যাফট) নানা মডেল। তরুণ প্রজন্মকে বিমান চালনা ও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উদ্বুদ্ধ করতে রাখা হয়েছে বিশেষ সেমিনার ও সিমুলেটর রাইডের ব্যবস্থা।
পোর্তোর স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং স্থানীয় ব্যবসাগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডুরো নদীর দুই পাড়ে, বিশেষ করে বিখ্যাত রিবেইরা এলাকায় দর্শকদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ক্যামেরা আর বাইনোকুলার হাতে সব বয়সের মানুষ উপভোগ করছেন আকাশের এই জাদুকরী প্রদর্শনী।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই ‘এয়ার ইনভিক্টাস’ পোর্তোর আকাশে যে গতির ও আনন্দের রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে, তা বিমানপ্রেমীদের হৃদয়ে দাগ কেটে থাকবে অনেক দিন।







