দুই মাস আগে বই নয়, শুধু প্রচ্ছদ উন্মোচনের বিরল আয়োজন দিয়েই আলোচনায় এসেছিল খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরের নতুন বই ‘প্রিয়জন আপনজন’। সে সময় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছিলেন, ‘প্রচ্ছদ ছাড়া বই হয় না। প্রচ্ছদ ডাক দেয়, প্রচ্ছদ চিনিয়ে দেয়। প্রচ্ছদ বলে এসো। তারপরে না বই।’
প্রকাশনা জগতে ব্যতিক্রমী সেই আয়োজনের পর অবশেষে প্রকাশিত হলো বহুল আলোচিত বইটি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত হয় ‘প্রিয়জন আপনজন’ বইটির প্রকাশনা উৎসব। অনুষ্ঠানে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে পরিণত হয় এটি এক মিলনমেলায়।
অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত ‘প্রিয়জন আপনজন’ গ্রন্থে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনের একশজন বিশিষ্ট মানুষকে নিয়ে নিজের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন ফরিদুর রেজা সাগর। এক অর্থে এটি একটি সময়ের মানুষদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিকথার সংকলন।
ফারজানা ব্রাউনিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে অংশ নেন লেখক ফরিদুর রেজা সাগর, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন এবং অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম।
বইটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, “আমাদের দেশে দুঃখজনক হচ্ছে, মাত্র কিছু দিন আগের মানুষটিকেও আমরা চিনি না। আমার মনে হয় ‘প্রিয়জন আপনজন’ বইটা একশো জনকে নিয়ে লেখা হয়েছে, এই সংখ্যাটা হয়তো বাড়বে। কিন্তু এই বইটার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, একটা প্রজন্মের কাছে আরেকটা প্রজন্মের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে—কোন মানুষগুলো কোন ক্ষেত্রে আলাদা করে ছিলেন।”
কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, “সব মিলিয়ে আমাদের প্রকাশনা জগতের জন্য সাগরের ‘প্রিয়জন আপনজন’ একটি অনন্য সাধারণ বই। সাগরের লেখনীর জন্যও এটি একটি অসামান্য বই হয়ে উঠবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।”
প্রকাশনা উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ইমদাদুল হক মিলন, আফজাল হোসেন, জুয়েল আইচ, দিলারা জামান, আবদুর রহমান, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, আবুল হায়াত, ফেরদৌস হাসান, ওমর সানি, রেজানুর রহমান, আমীরুল ইসলাম, আফসানা মিমি, কনা রেজা, কেকা ফেরদৌসী, কোনাল, অণিমা রায়সহ শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের শতাধিক গুণীজন।
তবে পুরো আয়োজনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল প্রকাশনা উৎসবের শেষ পর্বে। বইটির মোড়ক উন্মোচনের পরই মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় দেশের কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনকে। তিনি টানা প্রায় এক ঘণ্টা গান পরিবেশন করে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেন। তাঁর পরিবেশনায় উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান শেষে ফুলেল শুভেচ্ছায় সম্মান জানানো হয় এই কিংবদন্তী শিল্পীকে।







