বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-টরন্টো রুটের একটি ফ্লাইটে রোমে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার অভিযোগ করেছেন কাশফিয়া নাহরিন নামে এক যাত্রী। বিমানটিতে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিজ্ঞতার কথা জানান কাশফিয়া নাহরিন।
পোস্টে তিনি লেখেন, আমার জীবনের অন্যতম ভয়াবহ একটি ফ্লাইটের পর বাংলাদেশে অবতরণ করলাম। এরপর দীর্ঘ পোস্টে ফ্লাইটে তার অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। কাশফিয়ার দাবি, বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-টরন্টো রুটের ফ্লাইট রোমে জ্বালানি নেওয়ার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা বিরতি নেয়। ৬ আগস্ট টরন্টো থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা একটি ফ্লাইট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রোমে পৌঁছানোর পর যান্ত্রিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৭০ যাত্রীকে যথাযথ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা ছাড়াই প্রায় আট ঘণ্টা বিমানের ভেতরে রাখা হয়। এরপর যাত্রীদের বিমানবন্দরে নামিয়ে দেওয়া হলেও পাইলটসহ ফ্লাইটের কর্মীদের আর দেখা যায়নি এবং বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কাশফিয়া জানান, রোম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মার্কিন ও কানাডিয়ান পাসপোর্টধারী এবং শেনজেন ভিসাধারী প্রায় ১০০ যাত্রী বিমানবন্দর ছেড়ে হোটেলে যেতে পারেন। কিন্তু বাকি প্রায় ১৭০ জন যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব যাত্রীর জন্য বাংলাদেশ বিমান কোনো খাবারের ভাউচার দেয়নি। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য একটি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।
পোস্টে তিনি আরও জানান, রাতে বাংলাদেশ বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার যাত্রীদের জানান, পরদিন বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ থেকে একজন প্রকৌশলীসহ একটি ফ্লাইট রোমে আসবে। ওই প্রকৌশলী বিমানটি পরীক্ষা করার পর সেটি রাত ১১টার ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত করা হবে বলে আশা করা হয়েছিল।

এর ফলে যাত্রীদের প্রায় ২৪ ঘণ্টা বিমানবন্দরে কাটাতে হয়েছে বলে দাবি করেন কাশফিয়া। তিনি বলেন, সীমিত ধারণক্ষমতার লাউঞ্জে মাত্র কয়েক ঘণ্টা থাকার সুযোগ পাওয়া যায়। বাকি সময় যাত্রীদের গেট এলাকায় থাকতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও অন্যান্য যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন বলেও দাবি করেন তিনি। শিশুদের জন্য ডায়াপার ও পর্যাপ্ত খাবারের সংকট ছিল এবং অনেক যাত্রীর কাছে জরুরি খরচ চালানোর মতো ক্রেডিট কার্ডও ছিল না বলে পোস্টে উল্লেখ করেন কাশফিয়া।
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, পুরো পরিস্থিতিতে বিমান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা বা তথ্য পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ফ্লাইটটি সব যাত্রীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে বলে জানান কাশফিয়া। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিমানে ভ্রমণের আগে যাত্রীদের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বানও জানান তিনি।








