ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালে (যুব উৎসব) যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তিন শতাধিক তরুণের পদচারণায় মুখরিত ছিল কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণ।
আজ রোববার ২৬ নভেম্বর রাজধানীতে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির (সেলপ) নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ রাইট হিয়ার রাইট নাও’ বা ‘অধিকার এখানে, এখনই’ প্রকল্পের উদ্যোগে এই আয়োজনে বাল্যবিয়ে, লৈঙ্গিক নিপীড়ন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য-অধিকার এবং লিঙ্গ সমতার মত বিষয়ে নানা আলোচনায় যোগ দেয় মেধাবী তরুণরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক, পিপল, কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস, মৌটুসী কবীর বলেন, আমরা যে শিক্ষা বা সামাজিক পরিবেশে বড় হই, সেখানে প্রশ্ন করার অধিকার সম্পর্কে আমাদেরকে সেভাবে জানানো হয় না। বিশেষত যখন যৌন বিষয়ক বা প্রজনন বিষয়ক প্রশ্ন থাকে। যে কোন তরুণ-তরুণীর মনে এ বিষয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু সামাজিকভাবে এই প্রশ্নগুলোকে দাবিয়ে রাখা হয়। হয়তো বলা হয়, এগুলো লজ্জার বিষয়। এগুলো আলাপ করা যাবে না।
তিনি বলেন, এখানে দেখে ভালো লাগছে যে, আপনারা খোলা মনে এখানে এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করছেন। আপনারা নিজেদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করবেন। না হলে পরিবর্তন কীভাবে আসবে। একটি সমতাপূর্ণ পৃথিবী কীভাবে আসবে?
বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস অ্যাম্বাসির হিউম্যান রাইটস, হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড জেন্ডার বিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি ইয়ান সুইলেন্স এই অনুষ্ঠানের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সামাজিক পরিবর্তন ও লৈঙ্গিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতে তরুণরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তিনি বলেন, এখনকার পৃথিবী শুধুমাত্র একটা সীমান্ত দিয়ে সীমাবদ্ধ নয়, আমরা এখন বৈশ্বিক নাগরিক। অর্থাৎ আমাদের যে কোন আইডিয়া, যে কোন উদ্যোগ, শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশের জন্যই নয়, সেটি পরিবর্তন আনতে পারে সারা বিশ্বে।
স্বাগত বক্তব্যে ‘রাইট হিয়ার রাইট নাও’ বাংলাদেশের কোয়ালিশনের ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা প্রায় ১ হাজার তরুণ-তরুণীকে নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর সাথে কাজ করেছি। জেন্ডার সমতা এবং যৌন নিপীড়ন সম্পর্কে কীভাবে আরও সচেতন থাকা যায় সে সম্পর্কে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে ‘সমন্বিত যৌন শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা, সাফল্য, চ্যালেঞ্জ এবং আগামী দিনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সরকার, বেসরকারি সংস্থা, যৌন-প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং একজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এতে অংশ নেন।
পরে অবয়ব-এর নির্বাহী পরিচালক, নাজিয়া জেবিন এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির (সেলপ) প্রধান ও ইনচার্জ শাশ্বতী বিপ্লবের পরিচালনায় ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং জেন্ডার, ফেমিনিজম অ্যান্ড কাউন্টারিং ব্যাকলেশেস’ শীর্ষক একটি সেশন পরিচালিত হয়।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ট্রেইনিং-১) মাজহারুল হক মাসুদ বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, কমিউনিটির সদস্য, বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টেকসই শিক্ষা ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিশ্চিতে কাজ করা সুশীল সমাজের সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল সম্ভব। এ ছাড়া প্রখ্যাত শিল্পী ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মোর্শেদ মিশু ছবিতে জেন্ডার সমতা এবং নারীবাদের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন নারীপক্ষের সভানেত্রী ড. তাসনিম আজিম।
সব শেষে লালমনিরহাটের ‘রাইট হিয়ার রাইট নাও’ এর তরুণ সদস্যদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালে আসা তরুণেরা। এ ছাড়া সঙ্গীত শিল্পী মিনারের পরিবেশনা মুগ্ধ করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের।
‘রাইট হিয়ার রাইট নাও’ বা ‘অধিকার এখানে, এখনই’ একটি বৈশ্বিক প্রকল্প, যা নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে ও আন্তর্জাতিক সংস্থা রুটগারস-এর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে এটি বাংলাদেশসহ ১০টি দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশে এই প্রকল্পের অন্য অংশীদাররা হচ্ছে, নাগরিক উদ্যোগ, নারীপক্ষ, অবয়ব, ঋতু এবং ইউথ পলিসি ফোরাম (ওয়াইপিএফ)। আর এর নেতৃত্বে রয়েছে ব্র্যাক। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে, তরুণদের কণ্ঠকে উচ্চকিত করা, মেয়েদের ভূমিকাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি লৈঙ্গিক বৈচিত্র্য, অন্যান্য প্রান্তিক অবস্থায় থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করা।







