ইরানে হিজাব না পরার অপরাধে এক কিশোরীকে বেধড়ক মারধর করেছে পুলিশ। রড দিয়ে মাথায় আঘাত করায় কোমায় চলে গিয়েছে সেই কিশোরী।
রোববার (১ অক্টোবর) তেহরান মেট্রোর শোহাদা স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠার সময় হিজাব না পড়ার কারণে ১৬ বছরের আরমিতা গেরাভান্ডকে মারধর করে পুলিশ। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রশাসন।
সংবাদমাধ্যমের কাছে হেনগো জানিয়েছে, তেহরানে বসবাস করলেও আদতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে কুর্দ অধ্যুষিত কারমানশাহের বাসিন্দা ছিলেন আরমিতা। তেহরানের ফজর হাসপাতালে আরমিতার চিকিৎসা চলছে। কিশোরীর মা শাহিন আহমাদিকে ওই হাসপাতালের বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার পরিবারের সব সদস্য থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কোমায় থাকা কিশোরীকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া খবর সংগ্রহের জন্য হাসপাতালে গেলে সোমবার স্থানীয় এক সংবাদপত্রের সাংবাদিককে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে হিজাব বিরোধী আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘শাহোদা স্টেশনে আরমিতার উপর হামলা চালিয়েছে প্রশাসন।’ হিজাব পরার বাধ্যতামূলক নির্দেশ না মানায় নীতিপুলিশদের এই হামলা বলে দাবি তাদের। মারধরের জেরে গুরুতর জখম হওয়ায় আরমিতাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।
আরমিতার উপর হামলার ঘটনায় আদৌ সত্যতা রয়েছে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনা। তাদের পাল্টা দাবি, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে একে দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। আরমিতার মা-ও তা মেনে নিয়েছেন।
যে মেট্রো স্টেশনের এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ, সেই তেহরান মেট্রো কর্তৃপক্ষের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসুদ দোরোস্তিও মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন। আরমিতার সঙ্গে অন্যান্য যাত্রী বা মেট্রোর কর্মীদেরও কোনও ঝামেলা হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।








