রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের একটি মিছিল থেকে সংগঠনের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক জানান, ধানমণ্ডি ৮ নম্বরের তাকওয়া মসজিদ থেকে হিযবুত তাহরীরের সদস্যরা আকস্মিকভাবে একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাদের ধাওয়া দিলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মিছিলকারীরা বিভিন্ন গলিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ধানমণ্ডি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই আটজনকে গ্রেপ্তার করে।
তাদের কাছ থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর এর প্লেকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ৭ মার্চ রাজধানীতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের একটি মিছিল টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছিল পুলিশ। সেখান থেকে ৩৪ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
৭ মার্চ বায়তুল মোকাররম থেকে ‘মার্চ ফর খিলাফত’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হিযবুত তাহরীর। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় এ সংক্রান্ত পোস্টার দেখা গেছে। জুমার নামাজের পর মসজিদের দক্ষিণ গেট এলাকা থেকে মিছিল বের করে সংগঠনটি। খিলাফত ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি বিবেচনায় ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর সরকার হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ করেছিল।
দীর্ঘদিন ধরে গোপনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসা সংগঠনটি এখন অনেকটা প্রকাশ্যে তাদের কাজ চালাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তারা বায়তুল মোকারমে কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগিয়েছে; বিভিন্ন জায়গায় লিফলেটও বিলি করছে।
গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনই ঢাকায় মিছিল করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এরপর আরও নানা দাবিতে মিছিলের পাশাপাশি ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠকও করেছে সংগঠনটি। চট্টগ্রামেও পালন করেছে নানা কর্মসূচি।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘দীপ্ত শপথ’ গুঁড়িয়ে হিযবুত তাহরীরের পোস্টারও লাগানো হয়েছিল।
২০০১ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করা হিযবুত তাহরীর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য গত সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে আবেদন করলেও সরকারের তরফে কোনো বক্তব্য আসেনি।







