এলাকায় আধিপত্য বিস্তরকে কেন্দ্র করে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় উভয়পক্ষের ৮জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল ও পাচঁ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ছুড়িসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্তর থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এঘটনায় থানায় উভয় পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আহত ও স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নসহ মিশ্রীপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল দুপুরে রত্নপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র ১নং যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম (ইসমাইল) সমর্থকদের ধাওয়া করে ৮নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের দপ্তর সম্পাদক জালাল সরদারের সমর্থকরা।
এসময় মনিরুল ইসলামের সমর্থকরা হামলার ভয়ে রত্নপুর ইউনিয়নে মিশ্রীপাড়া বাজারে রেজাউল হাওলাদারের ওয়ার্কশপে আশ্রয় নেয়। জালাল সরদারের সমর্থকরা ওই ওয়ার্কশপে হামলা করে ভাংচুর করে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
হামলাকারীরা হাতুড়ি ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে-পিটিয়ে মিঠু হাওলাদার (৩৮), হিরু হাওলাদার (২৪), শওকত হাওলাদার (৩৫), জুয়েল হাওলাদার (৩০)কে গুরুতর আহত করে। প্রতিপক্ষ জালাল সরদারের সমর্থক জুয়েল সরদার (২৩), সোহান সরদার (২১), মামুন ফকির (২০) ও তুষার সরদার (২২) আহত হয়। এদের মধ্যে মিঠু হাওলাদার (৩৮), হিরু হাওলাদার (২৪), শওকত হাওলাদারকে (৩৫) গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকী ৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চত্তর থেকে ছুড়িসহ শাকিব চকিদারকে নামে এক কিশোরকে আটক করে এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন। উভয়পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।
এ ব্যাপারে ৮নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের দপ্তর সম্পাদক জালাল সরদার সাংবাদিকদের বলেন, মিশ্রীপাড়া বাজারের ইজারার টাকা উত্তোলন করতে হলে মনিরুল ইসলাম (ইসমাইল)কে চাঁদা দিতে হবে। তা না দিলে ইজারার টাকা উত্তোলন করা যাবে না। এনিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসছে।
এব্যাপারে রত্নপুর ইউনিয়ন বিএনপি ১নং যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম (ইসমাইল) চাঁদা চাওয়ার কথা অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে জালাল সরদার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আসছে। সে নিজেই লোকজন নিয়ে আমার ভাই ও সমর্থকদের হাতুড়ি ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে।
এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো.আলিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য এসআই সৌমেনকে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করার পরের কেউ যদি বেশি গুরুতর আহত হয়, তার পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে মামলা নেওয়া হবে।








