‘চুম্বকের কম্পাস কেন উত্তর দিকে নির্দেশ করে? কারণ দক্ষিণ দিকে রজনীকান্ত থাকেন!’— রজনীকান্তকে নিয়ে এরকম বহু কৌতুক প্রচলিত আছে! এইসব অতিরঞ্জিত কৌতুক শুধু ভক্তদের ভালোবাসার প্রকাশ নয়, বরং রজনীকান্ত নামটির সঙ্গে জুড়ে থাকা অবিশ্বাস্য মহিমার প্রতিফলন! কারণ পর্দায় যেমন তিনি অপ্রতিরোধ্যম, ব্যক্তিগত জীবনেও তার গল্পটি সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম ও অভূতপূর্ব সাফল্যের।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ৭৫ বছরে পা দিলেন ভারতীয় সিনেমার সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় সুপারস্টার রজনীকান্ত। বয়স যে কেবলই সংখ্যা, তার চেয়ে বড় প্রমাণ আর নেই। এখনো দাপটের সঙ্গে অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করছেন, রেসের ঘোড়ার মতো এগিয়ে যাচ্ছেন আর বক্স অফিস কাঁপাচ্ছেন একই তালে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে রজনীকান্তের জন্মদিন ঘিরে চলছে শুভেচ্ছার বন্যা। ভারতের রাজনীতির শীর্ষ ব্যক্তিত্ব থেকে বলিউড–টলিউডের তারকারা সকলেই শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিচ্ছেন প্রিয় ‘থালাইভা’কে। লাখো ভক্তও নিজেদের মতো করে উদযাপন করছেন এই বিশেষ দিন।
১৯৫০ সালের ১২ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুতে একটি মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রজনীকান্ত। জন্মনাম শিবাজি রাও গায়কোয়াড়। জীবনের শুরুটা ছিল কঠিন। একসময় কুলির কাজ করেছেন, বাসের সহকারী হিসেবেও চাকরি করেছেন বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন করপোরেশনে।
১৯৭৩ সালে অভিনয়ের স্বপ্নে তিনি ভর্তি হন মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে, আর সেখান থেকেই শুরু তার রূপালি পর্দার যাত্রা।
১৯৭৫ সালে তামিল সিনেমা ‘অপূর্ব রাগাঙ্গল’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। দক্ষিণ ভারত পেরিয়ে বলিউড, তারপর আন্তর্জাতিক অঙ্গন—সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে যান রজনীকান্ত।
২০০৭ সালের ‘শিবাজি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পেয়ে তিনি এশিয়ার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের তালিকায় জায়গা করে নেন, ঠিক জ্যাকি চ্যানের পরেই।
তার সাম্প্রতিক কাজগুলোও প্রমাণ দেয় সময়কে তিনি নিজের মতো করে বশে আনতে জানেন।
২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জেলার’ বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ঝড় তোলে। ছবির জন্য রজনীকান্ত নেন ১১০ কোটি রুপির পারিশ্রমিক। যা নিজেই এক নতুন রেকর্ড। সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭০০ কোটি রুপি আয় করে।
এরপর ২০২৫ সালে মুক্তি পায় ‘কুলি’, যা ৫০০ কোটির বেশি ব্যবসা করে আবারও প্রমাণ দেয়—রজনীকান্ত শুধু তারকা নন, তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান।
বয়স বাড়ছে, কিন্তু কমছে না তার জনপ্রিয়তা। রজনীকান্ত এখনো একই উচ্ছ্বাসে মানুষকে হলে টেনে আনেন, একই আবেগে দর্শক হাততালি দেয় তার সংলাপ, স্টাইল ও অ্যাকশন দৃশ্যে।
অভিনয়জীবনের পাঁচ দশক পেরিয়েও তিনি যে ভক্তদের হৃদয়ে একইরকম রাজত্ব করে চলেছেন, তা হয়তো বিশ্বের কোনো সিনেমাতেই আর দেখা যায় না।
রজনীকান্ত সত্যিই অনন্য—সিনেমার পর্দায়, সংগ্রামী জীবনে, এবং কোটি ভক্তের ভালোবাসায়।








