গত বছরের জুলাইতে ছাত্র জনতার আন্দোলনের সময় হত্যা ও হত্যাচেষ্টা অভিযোগে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীর ৫০ থানায় মামলা দায়ের হয় ৭০৭টি।
এ সব মামলায় আসামি করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে।
শুক্রবার ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগ গণমাধ্যমে এ সব তথ্য দিয়েছে।
প্রসিকিউশন বিভাগ বলছে, মামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আমীর হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক এমপি মমতাজ বেগম, এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, আব্দুস সোবহান গোলাপ, আ ক ম সরওয়ার জাহান বাদশাসহ পাঁচ হাজার ৭৯ জন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।
গ্রেপ্তার হন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি মো: শহিদুল হক ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ২৩ জন পুলিশ সদস্য। গ্রেফতারকৃত অপর পুলিশ সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মো: আসাদুজ্জামান মিয়া (৬৪), সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম (৫২), সাবেক ডিসি তানভির সালেহীন ইমন, সিলেটের সাবেক পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান (৪৬), সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (৪৪), ডিবি লালবাগ জোনের সাবেক ডিসি মশিউর রহমান (৪৮), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ধানমন্ডি জোন) আব্দুল্লাহ হিল কাফি (৩৯), সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো: তানজিল আহমেদ (৩৭), এডিসি (বর্তমানে এসপি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মো: শাহেন শাহ (৪১), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো: জুয়েল রানা (৪৩), সাবেক গুলশান থানার ওসি বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রফিকুল ইসলাম (৫৮), সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আপেল উদ্দিন (৩৯), সহকারি পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ) মো: ইফতেখার মাহমুদ (৩৪), যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল হাসান (৫২), ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মাজহারুল ইসলাম (৪৯), এসআই (নিরস্ত্র) মো: সাজ্জাদ-উজ-জামান (৩৬), নায়েক সজিব সরকার (২৭), কনস্টেবল সুজন হোসেন (২০), শোয়াইবুর রহমান ও মো: বায়োজিদ বোস্তামী (২০)।
প্রসিকিউশন বিভাগের এডিসি (প্রশাসন) মাঈন উদ্দিন চৌধুরি বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে ৭০৭টি। এ সব মামলায় মন্ত্রী, এমপি ও আমলাসহ গ্রেফতার হন পাঁচ হাজার ৭৯ জন। সাবেক দুই আইজিপিসহ গ্রেপ্তার রয়েছেন ২৩ পুলিশ সদস্য। মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন।








