মিয়ানমারে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে সাগাইং শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানা ভূমিকম্পে এপর্যন্ত অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেশি। ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, দক্ষিণ-পশ্চিম চীন এবং ভারতের কলকাতা, মণিপুর ও বাংলাদেশের ঢাকা-চট্টগ্রামে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে আকাশচুম্বী ভবন, সেতু ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি নির্মাণাধীন ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে, যেখানে ৪৩ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরেক ভিডিওতে মান্দালয়ের একটি দ্বিতল বাড়ি আংশিক ধ্বংস হয়ে পার্শ্ববর্তী দেয়ালে হেলান দিয়ে থাকতে দেখা যায়। ইরাবতী নদীর ওপর একটি পুরনো সেতু ভেঙে পড়েছে। ব্যাংককের একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে ছাদ থেকে ঝাড়বাতি ছিটকে পড়ার দৃশ্যও ধারণ করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর থাইল্যান্ড জরুরি অবস্থা জারি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার তৎপরতা চালালেও অবকাঠামোগত ক্ষতি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কাজে বিঘ্ন ঘটছে। নেপিডোতে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘর কম্পনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাগাইং ফল্টলাইনে অবস্থিত মিয়ানমারে ভূমিকম্প নিয়মিত ঘটনা। ১৯৩০ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে এখানে ৭.০ বা তার বেশিমাত্রার কমপক্ষে ছয়টি বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ২০১৬ সালে বাগানে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে তিনজন নিহত হয়েছিলেন। দারিদ্র্য ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে দেশটির বিপর্যয় মোকাবিলা ক্ষমতা সীমিত, বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলে।
উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, তবে ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








