গ্রামীণ কল্যাণের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবি সংক্রান্ত রায়টি একজন বিচারপতি কেন্দ্রিক যুক্তিতে প্রত্যাহার (রিকল) করেছেন হাইকোর্ট।
এই প্রতিষ্ঠানটির কর দাবি নিয়ে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক রিটের রুল ডিসচার্জ করে গত ৪ আগস্ট রায় দেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এই রায়ের ফলে আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে দাবীকৃত অর্থ এনবিআর আদায় করতে পারবে বলে ওইদিন জানান রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী। অন্যদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ওইদিন বলেন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।
তবে সরকার পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত ২৯ আগস্ট রায়টি হাইকোর্ট প্রত্যাহার (রিকল) করেন জানিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায় প্রদানকারী বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রায় রিকল করার (গ্রাউন্ডে) যুক্তিতে বলেছেন যে, বেঞ্চের অপর বিচারপতি এই কোর্টেই রাষ্ট্র পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। সরকার পক্ষে এই মামলাটি তিনি একসময় প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। সুতরাং তিনি (বিচারপতি) যেহেতু এই মামলা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন তাই তিনি বিচারক থেকে রায়টি দিলে ডিফেক্টিভ হবে। তাই রায়টি প্রত্যাহার (রিকল) করে তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে মামলাটি পাঠান অন্য কোর্ট নির্ধারণের জন্য।’
তবে ছয় মাস ধরে এই মামলাটি শুনানি করার সময় কেন এই বিষয়টি সামনে আনা হলো না? সে প্রশ্ন রেখে আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, এটা আমাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। জনগণের কাছে একটা ভুল মেসেজ যাবে যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার কারনে এটা হয়ত করেছেন।’
ড. মুহাম্মদ ইউনূস চেয়ারম্যান থাকা গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক রিট করে। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। সে রুল শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টে মূল বিষয়বস্তুর ওপর শুনানির নির্দেশ দেন। এরপর শুনানি শেষে রুল খারিজ করে রায় দেন গত ৪ আগস্ট রায় দেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
এই মামলায় হাইকোর্টে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ-আল-মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও সহকারী অ্যটর্নি জেনারেল তাহমিনা পলি।








