আমরা সাধারণত মস্তিষ্কের বার্ধক্য শুনলেই ভয় পাই বা তা কোনো বড় বিপর্যের সঙ্গে যুক্ত ভাবি। তবে ভারতের নয়াদিল্লির বাত্রা হাসপাতালের পরিচালক ও এইচওডি, নিউরোলজিস্ট ডা. বিপ্লব দাস বলছেন, তার কাছে বিষয়টি এতটা নাটকীয় নয়। বরং এটি হলো জীবনের ভালো সংলাপ উপভোগ করার জন্য মনোযোগী থাকা, নতুন কিছু শেখার জন্য কৌতূহলী থাকা, এবং চাপ সামলাতে শান্ত থাকা।
বার্ষিক অভ্যাসগুলো মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। তিনি এমন ৬টি অভ্যাসের কথা শেয়ার করেছেন যা নিয়মিত করে তিনি মস্তিষ্কের বার্ধক্য ধীর করতে পারেন।
সংবাদমাধ্যম দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
১. প্রতিদিন শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা
ডা. দাস বলছেন, আগে তিনি ভাবতেন ব্যায়াম শুধু মাংসপেশি বা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য। এখন তিনি এটি দেখেন মস্তিষ্কের রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে। নিয়মিত শারীরিক আন্দোলন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়, স্মৃতি শক্তি উন্নত করে এবং নতুন স্নায়ুতন্ত্রের সংযোগ গড়ে তোলে। দৈনন্দিন জীবনে যেকোনো ধরনের হাঁটা, যোগা, স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা ছোট কর্মশালা মন ও শরীরকে সতেজ রাখে।
২. ঘুমকে অ-আলোচ্য বিষয় হিসেবে দেখা
ঘুমকে সময়ের অপচয় মনে করা ভুল। ঘুম হলো মস্তিষ্কের পুনর্গঠন। ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্ক বর্জ্য অপসারণ করে, স্মৃতি সংরক্ষণ করে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ পুনঃস্থাপন করে। ঘুম কমালে মন ধীর, সহিষ্ণুতা কম এবং মনোযোগ দুর্বল হয়। তাই তিনি নিজের ঘুমকে অগ্রাধিকার দেন।
৩. অস্বস্তিকর হলেও নতুন কিছু শেখা
বয়স বাড়লে শেখার বয়স শেষ হয়ে যায় এমন ভুল ধারণা আছে। ডা. দাস বলেন, নতুন দক্ষতা, নতুন ভাষা বা অজানা বিষয় শেখার চেষ্টা মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখে। নতুন কিছু বোঝার জন্য কষ্ট হওয়াই মানসিক বৃদ্ধির চিহ্ন।
৪. মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে খাওয়া
কঠোর ডায়েট নয়, তবে খাবারের ক্ষেত্রে সচেতনতা প্রয়োজন। সবজি, ফল, স্বাস্থ্যকর চর্বি, বাদাম, বীজ, মাছ ও পর্যাপ্ত পানি মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। ভারী বা প্রসেসড খাবার মন ধূলায় দেয়, আর হালকা, পুষ্টিকর খাবার সতেজ রাখে। তবে খাবার থেকে আনন্দও গুরুত্বপূর্ণ।
৫. মানসিক শান্তি রক্ষা করা
দীর্ঘমেয়াদি চাপ মস্তিষ্কের বার্ধক্য দ্রুত করে। তিনি বলেন, মানসিক শক্তি যেখানে প্রয়োজন নয় সেখানে খরচ না করা, নিউজের অতিরিক্ত প্রভাব সীমিত করা এবং নিজেকে শান্ত করার সময় রাখা জরুরি। গভীর শ্বাস, একা হাঁটা বা নিরব বসা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
৬. মানসিক ও আবেগগতভাবে উৎসাহিত মানুষদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা
একাকীত্ব মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। তবে অর্থপূর্ণ সামাজিক সংযোগ মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়। হাসি, গল্প, বিতর্ক ও গভীর সংলাপ স্মৃতি, ভাষা, সহানুভূতি ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাকে চ্যালেঞ্জ করে। ডা. দাস বলেন, বড় বন্ধুসমাজের প্রয়োজন নেই, শুধু কয়েকজন যাদের সঙ্গে সম্পর্ক মানসিক ও আবেগগতভাবে শক্ত রাখে, যথেষ্ট।
এই অভ্যাসগুলো কোনো চমকপ্রদ নয়, কিন্তু একসাথে মস্তিষ্ককে সক্রিয়, স্থিতিশীল এবং অভিযোজ্য রাখে।








