ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার সরকার পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বড় ধরণের দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬ শতাংশের বেশি ভোটার মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন সরকার পরিচালনায় দক্ষ না।
গত বুধবার (২২ এপ্রিল) ফক্স নিউজে প্রকাশিত এক জরিপে এই তথ্য উঠে আসে।
জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৯ জনে ১০ জন (৯০ শতাংশ) এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৭ জনে ১০ জন (৭০ শতাংশ) প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, রিপাবলিকানদের মধ্যে ১০ জনে ২ জন এবং নন-মেগা (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) রিপাবলিকানদের মধ্যে ৪ জনে ১০ জন প্রশাসনের কাজে অসন্তুষ্ট।
এই জরিপে দেখা গেছে যে ট্রাম্পের সক্ষমতার এই সূচকগুলো ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসন (৪৪ শতাংশ) এবং ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনের (৩৮ শতাংশ) মতই, যা ভোটারদের সাধারণত ক্ষমতাসীনদের প্রতি কঠোর মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।
রিপাবলিকান জরিপকারী ড্যারন শ, বলেন, “এটি হোয়াইট হাউসের জন্য সান্ত্বনাদায়ক নাও হতে পারে, কিন্তু সব প্রেসিডেন্টের প্রতিই ভোটারদের কঠোর হওয়ার একটি প্রবণতা রয়েছে।”
তিনি ডেমোক্র্যাট ক্রিস অ্যান্ডারসনের সাথে এই জরিপ পরিচালনায় সহায়তা করেছেন।
এই জরিপ অনুযায়ী ট্রাম্প অভিবাসন (৪৬ শতাংশ সমর্থন, ৫৪ শতাংশ অসমর্থন), চীন (৪২ শতাংশ সমর্থন, ৫৭ শতাংশ অসমর্থন), পররাষ্ট্রনীতি (৪০ শতাংশ সমর্থন, ৬০ শতাংশ অসমর্থন), ইরান (৩৭ শতাংশ সমর্থন, ৬৩ শতাংশ অসমর্থন), অর্থনীতি (৩৪ শতাংশ সমর্থন, ৬৬ শতাংশ অসমর্থন), সরকারি ব্যয় (৩৩ শতাংশ সমর্থন, ৬৭ শতাংশ অসমর্থন) এবং মুদ্রাস্ফীতি (২৮ শতাংশ সমর্থন, ৭২ শতাংশ অসমর্থন) মোকাবিলায় নেতিবাচক রেটিং পেয়েছেন। তার একমাত্র ইতিবাচক রেটিং হলো সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে (৫৩ শতাংশ সমর্থন, ৪৭ শতাংশ অসমর্থন)।
এই রেটিংগুলোর বেশিরভাগই রাষ্ট্রপতি হিসেবে ট্রাম্পের সামগ্রিক কাজের পারফরম্যান্সের চেয়ে কম: ৪২ শতাংশ ভোটার সমর্থন করেন, যেখানে ৫৮ শতাংশ অসমর্থন করেন। গত মাসে এই অনুপাত ছিল ৪১:৫৯।
এছাড়াও, মন্ত্রিসভার কিছু শীর্ষ কর্মকর্তাও নেতিবাচক রেটিং পেয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের কাজের মূল্যায়ন ১১ শতাংশ পয়েন্ট কমে গেছে (৪৪ শতাংশ সমর্থন, ৫৫ শতাংশ অসমর্থন), যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর মূল্যায়ন ১২ পয়েন্ট কমে গেছে (৪৪:৫৬) এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের মূল্যায়ন ১৭ পয়েন্ট কমে গেছে (৪১:৫৮)।
রিপাবলিকানদের মধ্যে, রুবিও (৭৭ শতাংশ) বা হেগসেথের (৭৬ শতাংশ) চেয়ে ভ্যান্সের কাজের মূল্যায়ন বেশি মানুষ (৮৪ শতাংশ) সমর্থন করে। নন-ম্যাগা রিপাবলিকানদের তুলনায় ম্যাগা রিপাবলিকানদের মধ্যে তাদের প্রত্যেকের মূল্যায়ন অন্তত ২০ পয়েন্ট বেশি। ভ্যান্সের অনুমোদন রুবিও এবং হেগসেথের চেয়ে বেশি হওয়ার প্রধান কারণ হলো ম্যাগা রিপাবলিকানদের সমর্থন, যারা ভ্যান্সকে প্রায় ১০ পয়েন্ট বেশি মূল্যায়ন করে।
নতুন এই জরিপে ভোটারদের প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন গুণের ওপর মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে এবং এক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফলাফলের চেয়ে নেতিবাচক ফলাফলই বেশি। অর্ধেকেরও বেশি মানুষ বলেছেন, ট্রাম্প তাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন না এবং দেশের নেতা হিসেবে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য তার যথাযথ বিচারবুদ্ধি, মানসিক সুস্থতা এবং মেজাজের অভাব রয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের ঠিক আগের সময়ে ৫২ শতাংশ মানুষ মনে করতেন ট্রাম্পের সঠিক মেজাজের অভাব রয়েছে যা বেড়ে এখন ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে, এটি তার ২০১৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনী প্রচারণার বেশিরভাগ সময়ের প্রায় সমান।
যদিও ৫৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে রাষ্ট্রপতির সঠিক বিচারবুদ্ধির অভাব রয়েছে, তবে প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ তা মনে করেন না। এটি ২০২৩ সালের তুলনায় অপরিবর্তিত এবং ২০১৬ সালের সর্বনিম্ন ৩৬ শতাংশ মানুষের তুলনায় বেশি।
জরিপ অনুযায়ী, ৬৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ট্রাম্প তাদের পরোয়া করেন না। তবে ৩৭ শতাংশ মানুষ তার উল্টোটা মনে করেন যা ২০২৪ সালের সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ থেকে কমে এসেছে।
এই জরিপ অনুসারে, ৫৫ শতাংশ মানুষ বলেন, দায়িত্ব পালনের জন্য ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নেই। ২০২৪ সালের শেষের দিকের তুলনায় এই হার ৭ পয়েন্ট বেড়েছে এবং ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ ৫৬ শতাংশের কাছাকাছি।
তুলনামূলকভাবে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার পুনঃনির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করে দেন, তখন ৬৫ শতাংশ মানুষ বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নেই।
ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জন বা তার বেশি বলেন যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য ট্রাম্পের প্রয়োজনীয় গুণাবলীর অভাব রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতি ১০ জন মেগা রিপাবলিকানের মধ্যে অন্তত ৯ জন মনে করেন যে তার সঠিক গুণাবলী রয়েছে, কিন্তু মেগা-বিরোধী রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার কমে প্রতি ১০ জনে প্রায় ৬ জন বা তারও কম হয়। স্বতন্ত্ররা ট্রাম্পকে বিচারবুদ্ধি, মেজাজ, মানসিক সুস্থতা এবং সহানুভূতির অভাব রয়েছে বলেই বিবেচনা করেন।








