ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং আল-জাওফ প্রদেশে ইসরায়েল ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে, এতে ৩৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৩১ জন। কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে চালানো অভিযানের ঠিক একদিন পর এই হামলা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক। আহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ উদ্ধারকাজ এখনো চলমান রয়েছে।
হামলায় সানার আল-তাহরির এলাকায়, ৬০ নম্বর সড়কের একটি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং আল-জাওফের রাজধানী আল-হাজমে একটি সরকারি ভবন লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হুথি নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, নৈতিক দিকনির্দেশনা সদর দপ্তরে হামলায় অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ইসরায়েলি বিমান হামলায় সানার একটি চিকিৎসা কেন্দ্র, জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং হুথি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোকে প্রতিরোধ করতে তারা ভূমি থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে কিছু বিমান হামলার আগেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
টেলিগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে হুথিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে শত্রুদের বেশিরভাগ আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, এই হামলা ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের রামোন বিমানবন্দরে চালানো হুথি ড্রোন হামলার প্রতিশোধ। যে কেউ আমাদের ওপর আক্রমণ চালাবে, আমরা তাদের কাছে পৌঁছাবই।
ইসরায়েল কয়েক সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। গত মাসে ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাবিকে হত্যা করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা। এসব হামলায় বেসামরিক লোকজন এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হুথি গোষ্ঠী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বলেছে, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা হামলা বন্ধ করবে না।
হুথিরা ইতোমধ্যে রেড সি-তে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করেছে এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন আকাশ হামলা চালিয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক এবং ওয়েস্ট ব্যাংকেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ, মঙ্গলবার দোহায় একটি আবাসিক ভবনে হামাস নেতাদের বৈঠকে টার্গেট করে ইসরায়েল হামলা চালায়। এতে অন্তত ৬ জন নিহত হয়, তবে হামাস দাবি করে যে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব এই হত্যাচেষ্টায় বেঁচে গেছে।








