শেরপুরে গৃহবধু বৃদ্ধা ফরিদা বেগম হত্যা মামলায় ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ তৌফিক আজিজ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, শেরপুর শহরের গৌরীপুর মহল্লার যোগেন বিশ্বাসের ছেলে লিটন বিশ্বাস, মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ঠোঁটকাটা জাহাঙ্গীর ও রফিক মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আলাল উদ্দিন একই এলাকার আব্দুস ছালামের ছেলে।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌশলী ভারপ্রাপ্ত পিপি অ্যাডভোকেট নরেশ চন্দ্র দে।
মামলার নথির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট রাতে শেরপুর শহরের পশ্চিম গৌরীপুর এলাকায় মৃত আব্দুস সালামের স্ত্রী ফরিদা বেগমের বাসায় চুরি করতে ঢুকে ওই এলাকার মাদকাসক্ত যুবক লিটন, জাহাঙ্গীর, শামীম ও আলাল উদ্দিন। বৃদ্ধা ফরিদা বেগম তাদের চিনে ফেলায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে আসামিরা। ওই ঘটনায় পরদিন বৃদ্ধা ফরিদা বেগমের ছেলে সুমন মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে সুমন মিয়া।
মামলার তদন্তকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সন্দেহভাজন আসামি জাহাঙ্গীর ও লিটনকে গ্রেপ্তার করে এবং তারা ২০২০ সালের ২৯ আগস্ট আদালতে বৃদ্ধা ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী শামীম ও আলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি ওই ৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক হারুন-অর-রশীদ। মামলার বিচারিক পর্যায়ে বাদী, জবানবন্দি গ্রহনকারী ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। বুধবার ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন সাজার রায় ঘোষণা করেন আদালতের বিচারক।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ ও নিহত বৃদ্ধার পরিবার।










