মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার শর্তে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নাইন-ইলেভেন হামলার পরিকল্পনার দায় নিতে তিনজন অভিযুক্ত রাজি হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আজ ১ আগস্ট বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তি পৌঁছেছেন অভিযুক্তরা। এই তিন অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ, ওয়ালিদ মুহাম্মদ সালিহ মুবারক বিন আত্তাশ এবং মুস্তাফা আহমেদ আদম আল-হাওসাভিকে কিউবায় মার্কিন নৌঘাঁটি গুয়ান্তানামো বে নামক স্থানে বিনা বিচারে বছরের পর বছর আটক রাখা হয়েছে।
এই চুক্তির শর্তাবলী এখনও প্রকাশ করা হয়নি। প্রধান প্রসিকিউটর রিয়ার অ্যাডমিরাল অ্যারন রুয়ের স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, মৃত্যুদণ্ড বাতিলের বিনিময়ে এই তিন আসামি ২ হাজার ৯৭৬ হত্যাসহ সমস্ত অপরাধের জন্য দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছে। এই ব্যক্তিদের বেসামরিক ব্যক্তিদের ওপর হামলা, যুদ্ধের আইন লঙ্ঘন করে হত্যা, ছিনতাই এবং সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে খালিদ শেখ মোহাম্মদকে নাইন ইলেভেন হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করেছেন। ২০০৩ সালের মার্চে পাকিস্তান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রসিকিউটররা বলছেন, আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের কাছে নিয়ে উড়োজাহাজ ছিনতাই করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে যান খালিদ শেখ মোহাম্মদ।
নাইন-ইলেভেন হামলায় হামলাকারীরা যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত মার্কিন প্রতিরক্ষাদপ্তর পেন্টাগনের বাইরে বিধ্বস্ত করে। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া এবং পেনসিলভেনিয়ায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। এরপর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আফগানিস্তান ও ইরাকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।








