জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমসহ সম্পূর্ণ প্রক্টরিয়াল বডি, রেজিস্ট্রার, হল প্রভোস্ট এবং ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার ১১ আগস্ট দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এ দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়া হলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জবি সমন্বয়করা বলেন, অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনে যত আওয়ামী দোসর রয়েছেন, তাদের পদত্যাগ করতে হবে। যদি তারা পদত্যাগ করতে না চান, তাহলে কীভাবে পদত্যাগ করাতে হবে তা ছাত্রসমাজ জানে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু বকর বলেন, খুনি হাসিনার দোসর ভিসি সাদেকা হালিম ও তার সহযোগীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে। এই কারণে আমরা তাদের অভিভাবক হিসেবে দেখতে চাই না। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা পদত্যাগ না করে, তাহলে ভিসি ভবন ঘেরাও এবং তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে ক্যাম্পাসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, পদত্যাগের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
এর আগে বেলা দেড়টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জবি সমন্বয়ক মো. নূর নবী। দাবীগুলো হলো:
১. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টরসহ সম্পূর্ণ প্রক্টরিয়াল বডি, হল প্রভোস্ট ও ছাত্রকল্যান দপ্তরের প্রধান এবং রেজিস্ট্রারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।
২. ক্যম্পাসের ভিতরে লেজুড় ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। (ক্যাম্পাসের বাইরে তার রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। এটা যে কারো ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্ত, ক্যাম্পাসের ভিতরে সবাই সাধারণ ছাত্র।)
৩. শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সার্বিক খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
৪. আগে ছাত্রলীগের পদধারী ছিল এবং এর উপর ভিত্তি করে ক্যাম্পাসে চাকরি পেয়েছে তাদের ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকসহ যারা এখনো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত, শহীদ ও আহত সহযোদ্ধাদের নিয়ে কাশি-তামাশা করেছে, তাদের আগামী ২ দিনের মধ্যে চাকরি থেকে অব্যহতি নিতে হবে৷
৫. আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জকসুর নীতিমালা প্রনয়ন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. দখল হলগুলো অবিলম্বে দখলমুক্ত করতে হবে। আর মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দিতে হবে।
৭. দ্বিতীয় নির্মাণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। (সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে ক্যম্পাসের বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।)
৮. শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে ক্যম্পাসের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে ।
৯. ক্যাফেটেরিয়ার জন্য বাজেট বরাদ্দ রেখে খাবারের মান উন্নত করতে হবে। অতি শীঘ্রই নুতন ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
১০. নারী শিক্ষার্থীদের কমন রুমের মান উন্নত করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে শক্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
১১. ক্যাম্পাসের আশপাশে চাঁদাবাজি, রাজনীতির নামে টেন্ডারবাজি বন্ধের জন্য কার্যকর ব্যাবস্থা নিতে হবে।
১২. পোষ্য কোটা বাতিল এবং রাজনৈতিক নিয়োগ-বাণিজ্য আজীবনের জন্য বন্ধ করতে হবে।
১৩. গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠানের রূপ দিতে হবে।








