মেয়েদের আসরে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পেলো ফুটবলবিশ্ব। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ইতিহাস গড়তে প্রথমবার ফাইনাল খেলতে নেমেছিল ইংল্যান্ড ও স্পেন। ওলগা কারমোনার গোলে ইংল্যান্ডকে ১-০তে হারিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন।
বল পজিশনে প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছে স্পেন। ইংলিশ মেয়েরা বল পেয়েছে মাত্র ৩৭ শতাংশ, বাকি সময়ে ক্যারিশমা দেখিয়েছে স্পেন। হোর্হে ভিলদার দল পাঁচটি সুযোগ পেয়ে দুটি গোলমুখে শট নিয়েছে, যার একটিতে গোল আসে। ইংল্যান্ড তিনটি সুযোগের দুটি গোলমুখে শট নিলেও কাজে লাগেনি।
খেলা শুরুর প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণ শুরু করে ইংল্যান্ড। স্পেনের দিকে বল বেশি চাপলেও গোলমুখে প্রথম শট নেয়ার সুযোগ পায় পঞ্চম মিনিটে। লরেন হেম্পের দুর্বল শট ঠেকিয়ে দেন স্পেনিয়ার্ড গোলরক্ষক কাতা কোল।
তৃতীয় মিনিটে সেমিফাইনাল হিরো সালমা প্যারালুয়েলার সহায়তায় প্রথম আক্রমণে যায় স্পেন। গোলমুখে ভুল পাসের জন্য বল চলে যায় মাঠের বাইরে। ১৬ মিনিটে দারুণ সুযোগ তৈরি করে ইংলিশ দলটি। বক্সের বাইরে থেকে শট নেন লরেন হেম্প, শট যেয়ে লাগে ক্রসবারে।
এক মিনিট পর ওলগা কারমোনা বাঁ-পাশ থেকে দারুণ সুযোগ তৈরি করেন। বক্সের ভেতরে বল পেলেও সালমা সেটি কাজে লাগাতে পারেননি। ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটা নষ্ট করে স্পেন।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে প্রথম গোল দেখে সিডনির দর্শকরা, গোল করে এগিয়ে যায় স্পেন। বক্সের ভেতর থেকে বাঁ-পায়ে জোরাল শটে গোল করেন স্প্যানিশ অধিনায়ক কারমোনা, ইংল্যান্ড গোলকিপার ম্যারি এরপস সুযোগই পাননি ঠেকানোর। গোলে অ্যাসিস্ট করেন মারিওনা ক্যালডেন্টি।
খেলার ৪২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে আগায় সারিনা উইগম্যানের ইংলিশ শিষ্যরা, সুযোগ তৈরি করেন অ্যালিসিয়া রুসো। বক্সের মধ্যে বড় বাড়ান এলা টনির দিকে। কিন্তু তিনি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি, অফসাইডের ফাঁদে পড়েন।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পায় স্পেন। সেন্টার বক্সে ওনা বাটলের বাড়ানো বলে শট নেন সালমা। সেটি বারে লেগে বাইরে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে কড়া আক্রমণে যায় স্পেন। ৫০ মিনিটে প্রায় হয়ে যাওয়া গোল ঠেকিয়ে দেন ইংলিশ গোলকিপার এরপস। সুযোগ তৈরি করতে ইংলিশ অধিনায়ক মিলি ব্রাইটের দলও কম যায়নি। ৫৪ মিনিটে সুযোগ তৈরি করে কাজে লাগাতে পারেননি হেম্প। পরের মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। আইতানা বনমাতির দূরপাল্লার শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে আরও একটি সুযোগ পায় স্পেন। সালমা শট নিলে তা বারে ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়। এসময় স্প্যানিশরা কিয়েরা ওয়ালশের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে। রেফারি দীর্ঘসময় নিয়ে ভিডিও রেফারির সাহায্যে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান। জেনিফার হারমোসো পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হন।
খেলার ৭৬ মিনিটে সুযোগ আসে ইংল্যান্ডের। বাঁ-পায়ে শট নেন লরেন জেমস, ঠেকিয়ে দেন তাতা কোল। ৭৮ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন সালমা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগ, পিঠাপিঠি দ্বিতীয় সুযোগও নষ্ট করে স্পেন।
শেষদিকে অনেক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং এলোমেলো খেলা হলেও কোনপক্ষই আর গোলের দেখা পায়নি। ইংল্যান্ড শারীরিকভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে চেষ্টা করেছে, কিছুই কাজে লাগেনি। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। ১৩ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে যাচ্ছে স্পেনের। ২০১০ সালে স্পেনের ছেলেদের দল জিতেছিল বিশ্বকাপ।








