নর্থ কোরিয়ায় খ্রিস্টান ধর্মের চর্চা করায় এবং বাইবেল রাখার অপরাধে বেশ কিছু পরিবারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত এক পরিবারের মধ্যে একজন ২ বছর বয়সী এক শিশুও ছিল, পরিবারের সাথে তাকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একটি প্রতিবেদন সূত্রে এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
নর্থ কোরিয়া একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র তবে ধর্মীয় অনুশীলন যদি বিদেশি শক্তির পরিচয় দেয় বা রাষ্ট্রের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, এমন কোন ব্যক্তি বা পরিবারের কাছে ধর্মগ্রন্থ পাওয়া গেলে বা ধর্ম চর্চার প্রমাণ পাওয়া গেলে পুরো পরিবারকে শাস্তি ভোগ করতে হয়।
এনডিটিভি জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২০২২ সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা রিপোর্ট অনুযায়ী, নর্থ কোরিয়ায় ধর্ম চর্চার জন্য অন্যান্য ধর্মের লোকদের সাথে প্রায় ৭০ হাজার খ্রিস্টানকে বন্দী করা হয়। কারাগারে পাঠানো অনেকের মধ্যে একজন দুই বছর বয়সী শিশু ছিল এবং তাকে তার বাবা-মায়ের কাছে বাইবেল পাওয়ার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
২০০৯ সালে দুই বছর বয়সী শিশুসহ পরিবারটিকে একটি রাজনৈতিক বন্দী শিবিরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এই শিবিরে থাকা বন্দীরা বিভিন্ন সময় সেখানকার ভয়ানক অবস্থা এবং বিভিন্ন ধরণের শারীরিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছে। যা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
যুক্তরাষ্ট্র ও নর্থ কোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক কোন সম্পর্ক নেই। বহু বছর ধরেই শত্রু ভাবাপন্ন অবস্থায় আছে এই দু’টি দেশ। এই দুই দেশের মধ্যে মত প্রকাশ, ধর্ম এবং সংস্কৃতি নিয়ে সুপ্ত বিরোধ চলমান।







