নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টাপাল্টি হামলায় এক সাবেক ইউপি সদস্যসহ দুইজন নিহত হয়েছে। শনিবার রাতে মৌগাতী ইউনিয়নের জামাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাবেক ইউপি সদস্য দোজাহান (৪৮) জামাটি গ্রামের মইজ উদ্দিনের ছেলে। নিহত অপরজন একই গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নুর মোহাম্মদ (৩০)। এ ঘটনায় রফিক, আশরাফসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। গুরুতর আহত রফিককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অপর আহত আশরাফ মিয়া নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করে এবং লাশের ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নের জামাটি গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা দোজাহান মিয়ার কাছ থেকে একই এলাকার আমজাদ প্রায় দুই বছর আগে জমি বিক্রির কথা বলে ৫ লাখ টাকা নেয়। এ নিয়ে আমজাদের সাথে বেশ কিছুদিন ধরে দোজাহানের বিরোধ চলছিল। শনিবার রাত ৮টার দিকে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সম্মেলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে গ্রামের রাস্তায় প্রতিপক্ষ ধারালো দা দিয়ে দোজাহানকে এলোপাথারি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাতেই নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এরই জেরে রাত ১০টার দিকে একই গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে একই গ্রামের রফিকের বাড়িতে হামলা করলে বেশ কয়েকজন আহত হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় টেটার (কাতরা) আঘাতে আমজাদের পক্ষের নূর মোহাম্মদ টেটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা হাসপাতালে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা মৌগাতী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার দোজাহানকে কুপিয়ে জখম করে রাস্তায় ফেলে যায়। এলাকার লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে রাত ১০টার দিকে একই গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নুর মোহাম্মদ প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।







