২০০৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় মনপুরা। নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম–এর প্রথম চলচ্চিত্র। তখন তিনি টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ হলেও বড় পর্দায় একেবারেই নতুন। ফলে মুক্তির আগে ছবিটি নিয়ে তেমন প্রত্যাশা ছিল না—বিশেষ করে প্রেক্ষাগৃহ মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
কিন্তু মুক্তির পরই বদলে যায় সব হিসাব। অল্প সময়ের মধ্যেই শহর থেকে গ্রাম—সবখানে ছড়িয়ে পড়ে ছবিটির জনপ্রিয়তা। চঞ্চল চৌধুরী ও ফারহানা মিলি অভিনীত গ্রামবাংলার আবহমান প্রেমকাহিনি দর্শকের হৃদয়ে নাড়া দেয় গভীরভাবে। অনেকে মনে করেন, যে মধ্যবিত্ত শ্রেণি নানা কারণে হলবিমুখ হয়ে পড়েছিল, ‘মনপুরা’ তাদের আবারও প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনে।
১৯৯৭ থেকে ২০০৯: এক স্বপ্নের দীর্ঘ যাত্রা
এরআগে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে সেলিম জানান, ‘মনপুরা’ লেখার কাজ শুরু করেন ১৯৯৭ সালে। প্রথম খসড়া তৈরি হয় এক মাসেই। তখন এটি নাটক হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। ‘পরী’ চরিত্রে ভাবা হয়েছিল আফসানা মিমিকে। স্ক্রিপ্ট পড়ে তিনিই সেলিমকে পরামর্শ দেন “এটা নাটক নয়, সিনেমা বানান।”
সেলিমের ভাষায়, ‘মনপুরা’ আমি লিখতে শুরু করেছিলাম ১৯৯৭ সালে। ফার্স্ট ড্রাফট করি মাসখানেকের মধ্যে। তখন এটা নিয়ে আমার নাটক করার কথা ছিল। সেই সময়তো আমি টেলিভিশনের জন্য নাটক লিখতাম। নাটকটি নির্মাণ করতে পরী চরিত্রে কাস্টিং ঠিক করলাম আফসানা মিমিকে। তাকে স্ক্রিপ্টটা পড়তে দেই। সে এটা পড়ে আমাকে জানায় ‘সেলিম ভাই, এটা তুমি নাটক করো না, সিনেমা করো।’
কিন্তু নবীন নির্মাতার হাতে তখন প্রযোজকের আস্থা ছিল না। ২০০৩ সালে আবারও উদ্যোগ নেন তিনি। এবার ‘পরী’ চরিত্রে ভাবা হয় জয়া আহসানকে, আর ‘সোনাই’ চরিত্রে রিয়াজকে। তবু সেই চেষ্টাও সফল হয়নি।
অবশেষে ২০০৭ সালে নতুন করে শুরু হয় প্রস্তুতি। এর মধ্যে প্রায় এক দশক টেলিভিশনে কাজের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন সেলিম। ধীরে ধীরে প্রযোজক পাওয়া, টিম গঠন- সবকিছু এগোতে থাকে। টেলিভিশনের পরিচিত সহকর্মীদের নিয়েই গড়ে ওঠে ‘মনপুরা’র দল। প্রায় দুই বছরের পরিশ্রমে সম্পন্ন হয় ছবিটি।
অভিজ্ঞতা নয়, ছিল অদম্য আন্তরিকতা
৩৫ মিমি ফিল্মে শুটিং করা হয়েছিল ‘মনপুরা’। তখনকার প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতায় শুটিংয়ের ছয় মাস পর প্রথম ফুটেজ দেখেন নির্মাতা। সেটে মনিটর ছিল না, সিনেমা নির্মাণের অভিজ্ঞতাও ছিল সীমিত। কিন্তু পুরো টিমের ছিল অগাধ আন্তরিকতা ও বিশ্বাস।
সেলিমের ভাষায়, “আমাদের সবার প্রাণ আর জান ঢেলে দেওয়া প্রচেষ্টাই পর্দায় ধরা পড়েছে।”
১৭ বছর পরও ‘মনপুরা’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে আছে। এখনো সিনেমাটি নিয়ে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গ্রুপ, পেজে কথা হয় নিয়মিত। সিনেমার গান কিংবা কোনো ক্লিপ শেয়ার করে সিনেপ্রেমী দর্শক নস্টালজিয়ায় ডুবে থাকেন!








