প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে বাংলাদেশ এবং ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে। এর তাণ্ডবে দুই দেশে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অন্তত ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ মে) সকালে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ঘূর্ণিঝড় রেমাল বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সাথে দক্ষিণ এশিয়ায় আঘাত হানার পর ভারত ও বাংলাদেশে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের সূত্রে সিএনএন জানায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে মারা গেছে সাতজন।
মঙ্গলবার ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সোমবার সকালে কিছুটা শক্তি হারানোর পর রেমাল পূর্ব বাংলাদেশের উপর একটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি উভয় দেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে, উপড়ে ফেলেছে গাছ, রাস্তাগুলো পরিণত হয়েছে নদীতে। এছাড়া লাখ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ফেলেছে।
ঘূর্ণিঝড়টি দুই দেশের সীমান্তের কাছে আছড়ে পড়ায় রোববার ভারত ও বাংলাদেশের ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বেচ্ছাসেবক এবং সেনা কর্মীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোতে খাবার ও পানি বিতরণের জন্য একত্রিত করা হয়েছিল।

ভারতীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, রেমাল ভারতের কলকাতা শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে আঘাত করেছে। এসময় ঘন্টায় ১৩৫ কিলোমিটার (ঘন্টা ৮৪ মাইল) বেগে ঝোড়ো হাওয়া প্রবাহিত ছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও এর পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গ উপকূলজুড়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়।
ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার (৭১ মাইল) বেগে বাতাসের গতিবেগ উপকূলে আঘাত হানার পর ঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়ে।
ব্র্যাকের তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ঝড়-আক্রান্ত অর্থ্যাৎ উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করেন।
ব্র্যাকের দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. লিয়াকত আলী বলেন, এই লোকদের মধ্যে অন্তত ৫ লাখ মানুষ ‘মাটি, কাঠ, প্লাস্টিক শিট, খড় বা টিনের মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি বাড়িতে বাস করছেন।’
গবেষণা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ জলবায়ু সংকটের প্রভাবের জন্য বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি।

মো. লিয়াকত আলী বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অনেক এলাকায় আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। আর গাছপালা ভেঙে পড়া এবং লাইন ভাঙার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
সোমবার ভোরে মংলায় ব্র্যাকের একজন স্বেচ্ছাসেবকের তোলা ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন নারী বন্যার পানির মধ্যে হাঁটার চেষ্টা করছেন। তাকে বেশ কষ্ট করতে হচ্ছে, কারণ দমকা হওয়া তার পথে বাধা সৃষ্টি করছিল।
ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের ভিডিওতে দেখা যায়, শ্রমিকরা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভাঙ্গা গাছ অপসারণে কাজ করছে, যদিও তাদের উপর ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। কোস্ট গার্ডকে রেমালের তণ্ডব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।
রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতা শহরের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ হওয়ার পর শত শত ফ্লাইটও রেমালের কারণে প্রভাবিত হয়েছিল। বিমানবন্দরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসারে, সোমবার বিমানবন্দরের ভিতরে এবং বাইরে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছিল।
জলবায়ু বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে বলছেন, জলবায়ু সংকটের কারণে আবহাওয়ার এই চরম মাত্রাগুলো তীব্র হতে থাকবে, ভারতের লাখ লাখ মানুষ এর সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।








