সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুলসহ ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আলী।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিনের আদালতে এই মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলার বাদী তাহিরপুর হিফজুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অবৈধ ও অর্থের বিনিময়ে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিয়োগ প্রদানের অভিযোগ এনেছেন।
বাদী মামলায় উল্লেখ করেছেন, ২০২০ সালে তাহিরপুর হিফজুল উলুম আলীম মাদ্রাসার উপাধক্ষ্য, হিসাব রক্ষক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও নিরাপত্তা কর্মীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকুরিবিধি লঙ্ঘন হয়েছে। আসামিরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং তৎকালীন সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের মদদে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য, অদক্ষ দুর্নীতিবাজ লোকজনকে চাকুরির জন্য মনোনীত করেন।
এই অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা দায়েরের জন্য ওই সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের সিলেট অফিসে গেলেও তারা মামলা বা অভিযোগ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তৎকালীন সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন নিয়োগ প্রদানের সকল প্রকার দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষই অভিযোগ আমলে নেয়নি।
বিগত সময় জুলুমতন্ত্র কায়েম থাকায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী উল্লেখ করেন। বাদী অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আবেদন জানান। মামলায় তাহিরপুর হিফজুল উলুম আলিম মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার এক অধ্যাপকসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহিবুর রহমান, সদস্য তাজিমুল ইসলাম দোলাল, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক আলী আহমদ খাঁন, ভাটি তাহিরপুরের শাহাদা আক্তার ও শরিফুল ইসলাম, চারাগাঁওয়ের সাইফুল ইসলাম, লক্ষীপুরের আবু আলী, ব্রাহ্মণগাঁওয়ের আজিজুল ইসলাম ও আবু সাঈদসহ আরও কয়েকজন।
বাদীর আইনজীবী আবুল বাশার জানিয়েছেন, মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছেন। তাহিরপুর হিফজুল উলুম আলিম মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২০ সালে একই বিষয়ে একই আদালতে মামলা হয়েছিল, সেই মামলা এখনও তদন্তাধীন আছে। একই বিষয়ে আবার এখন মামলা কেন বুঝতে পারছি না।








