শূন্য থেকে সাফল্যের শীর্ষে; ১০ বছরে পড়লো নির্মাতা কাজল আরেফিন অমির ‘বুম ফিল্মস’। ২০১৬ সালের পহেলা জানুয়ারি লালমাটিয়ায় ছোট্ট উদ্যোগে প্রডাকশন হাউজটি যাত্রা শুরু করেছিল। গল্প বলার শক্ত এবং নতুন আইডিয়ার জাদু দিয়ে যে কেউ স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে পারে, সেটাই প্রমাণ করলো বুম ফিল্মস। ১০ বছরে প্রডাশন হাউজটি দেশের বিনোদন জগতে অনেকটাই শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।
বর্তমানে এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে লগ্নী হচ্ছে তুমুল জনপ্রিয় সিরিয়াল ব্যাচেলর পয়েন্ট (সিজন ৫)। যা বঙ্গ অ্যাপের পাশাপাশি বুম ফিল্মসের ইউটিউবেও দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরেই এই হাউজ থেকে আরও বেশি নাটক ও সিরিজ নির্মাণ করা। শুধু নির্মাতা অমি নন, এগুলো নির্মাণ করবেন অন্য নির্মাতা। এর কর্ণধার নির্মাতা অমির ইচ্ছে রয়েছে, বুম ফিল্মস থেকে আগামীতে নাটক-সিরিজের পাশাপাশি সিনেমা নির্মাণের।
১০ বছর আগে অনেকটা ইমোশনাল হয়েই বুম ফিল্মস যাত্রা শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে কাজল আরফিন অমি বলেন, লালমাটিয়াতে ছোট পরিসরে অফিস নিয়ে বুম ফিল্মস শুরু হয়েছিল। প্রথমে যারা ছিল তারা এখন অনেকে আমার টিমে নেই। কিন্তু আমার এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার তৌহীদ তালুকদার শুরুতে অফিস খোঁজা থেকে শুরু করে এই জার্নিতে সাথে আছে। এখন আমরা প্রাতিষ্ঠানিক জায়গায় এসেছি বলে মনে করি। গত বছর ব্যাচেলর পয়েন্ট (সিজন ৫)-এর বড় পরিসরে কাজ আমরা প্রযোজনা করছি। আমাদের কষ্ট ও চেষ্টার সঙ্গে দর্শকদের ভালোবাসা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশ্বাস, আগামীতে বুম ফিল্মস অনেক দূর যাবে। এখান থেকে আরও নির্মাতা, অভিনেতা, অভিনেত্রীরা কাজ করবে। যেমন, জিয়াউল হক পলাশ এখন নির্মাতা ও আমাদের দেশের অনেক জনপ্রিয় একজন নির্মাতা। অনেকের জার্নিতে বুম ফিল্মস এখন অনেক পরিণত। এ বছর আশা করছি, নিয়মিত নাটক, ওয়েব সিরিজ প্রযোজনা করবে, সেইসঙ্গে ভবিষ্যতে আমরা সিনেমাও প্রযোজনা করবো।
কথা হয় ‘বুম ফিল্মস’ নাম প্রসঙ্গে। অমি বলেন, নামটা আমার বস ফাহমী ভাই (ইফতেখার আহমেদ ফাহমী) দিয়েছিলেন। উনি বলেছিলেন, তোর হাউজের নাম ‘বুম ফিল্মস’ দে। শুরুতে আমিও কৌতূহলী ছিলাম কেন ‘বুম ফিল্মস’? ফাহমী ভাই বলেছিলেন, তুই ভালো কাজ উপহার দিবি, তুই অডিয়ান্সকে বিনোদিত করতে পারবি। তোর কাজের আওয়াজ হবে, সেগুলো ব্লাস্ট করবে। এ কারণে নামটা ‘বুম ফিল্মস’ হোক।
গত ১০ বছরে ‘বুম ফিল্মস’-এর ব্যানারে দেড় শতাধিক কনটেন্ট নির্মাণ করেছেন অমি। তার এসব কাজ কোনো না কোনোভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে আর্টিস্টটা যেমন ম্যাস অডিয়ান্সে পৌঁছে ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছেন, তেমনি অমি হয়ে উঠেছেন ‘সেলিব্রেটি মেকার’, তার রয়েছে আলাদা ফ্যান বেইজ, ফেসবুকে ফ্যান পেইজে ৩৬ লাখের বেশি অনুসারী, যা বাংলাদেশের অন্য কোনো নির্মাতার নেই!
তবে আজকের অবস্থানে আসতে অমিকে নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। সেই গল্পটা কেমন ছিল? অল্পকথায় অমি বললেন, ২০১৫ সালের শেষ দুই মাসে অফিসে ডেকোরেশন হয়, ‘১৬-এর জানুয়ারি থেকে অফিসিয়ালই আমরা যাত্রা শুরু করি। প্রতিমাসের ৫ তারিখে অফিস ভাড়া দেয়া লাগতো। সেই সময়ে মাস শেষের দিকে এলে টেনশন হতো পরের মাসে কীভাবে ভাড়া দেব? কীভাবে অফিস মেইনটেনেন্স কস্ট, স্টাফ স্যালারি জোগাড় করবো? প্রতিমাসে এই প্রেশার তিনবছর বইতে হয়েছে। এরপর থেকে ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়া আর অনুভব করিনি।
অমি বলেন, সাড়ে আটবছর লালমাটিয়াতে অফিস ছিল। আমার অনেক কিছুর সাক্ষী ওই অফিস। এখন বুম ফিল্মসের অফিস ধানমণ্ডিতে। প্রায় ১৫ জন আমার সঙ্গে কাজ করে, অফিস করে। এখন বুম ফিল্মসের নিজস্ব শুটিং হাউজ আছে, এডিটর, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, সোশ্যাল মিডিয়া এক্সপার্ট, লাইন প্রডিউসার, এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার, সহকারী ডিরেক্টর সবকিছু আছে। আলহামদুলিল্লাহ্ এখন আমরা প্রোপারভাবে টিম গুছিয়েছি।









