কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হানিফ মিয়া (৩২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত হানিফ মিয়া উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ মে) রাতের দিকে নিজ বাড়ির সামনে মাচার ওপর বসে ছিলেন হানিফ মিয়া। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী জাকির হোসেনসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক ধরে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফ মিয়ার মৃত্যু হয়। পরে অভিযুক্তরা মরদেহ বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত জাকিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মাদকসহ একাধিক অপরাধের মামলাও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে হানিফের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতার মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত জাকিরের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।








