রমজান মাস রহমতের মাস, মাগফিরাতের মাস, নাজাতের মাস। প্রত্যেক মুসলমানই চেষ্টা করেন প্রতিটি রোজা রাখার। তারকারাও এর ব্যতিক্রম নন। শুটিংসহ অন্যান্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি তারাও রোজা রাখার চেষ্টা করেন। অভিনেত্রী ফারিয়া শাহরিনও তেমনটাই করেন।
মালয়েশিয়া থেকে চ্যানেল আই অনলাইনের পাঠকদের জন্য রমজানের তৃতীয় দিনে এই চ্যানেল আই লাক্সতারকা জানালেন তার শৈশবে রোজা রাখার অভিজ্ঞতা-
‘‘ছোটবেলায় রোজা পালন করতে খুব কষ্ট হতো, তাও দুই-একটা রাখতাম। তখনকার একটা মজার স্মৃতি মনে আছে। সেটা হচ্ছে, ইফতারের কিছুক্ষণ আগে বাসার বাইরে থেকে খেলা করে ঘরে এসে দেখি টেবিলে শরবত রাখা। একটানে সব শরতব খেয়ে ফেলেছিলাম। তারপর বাসার সবাই আমাকে বলেছিল, তোমার রোজা শেষ!
আমি বলেছিলাম, আরে আমি কিছু খেয়েছি নাকি? শরবত তো পান করেছি, আমার রোজা ভাঙেনি। কতো বাঁদর ছিলাম তখন! আমি প্রথম রোজা পালন করি, ৮ কিংবা ৯ বছর বয়সে। তখন থেকে প্রতিবার যতদূর পারতাম রোজা রাখতাম। বড় হয়ে নিয়মিত রাখি। এবারও রোজা আছি।’’
মালয়েশিয়া থেকে চলতি বছর দেশে ফেরার কথা থাকলেও ফারিয়া বললেন, ‘এ বছর ঠিক করেছি দেশে আসবো না।’ তিনি বলেন, শেষবার বাংলাদেশে কিছু বিষয়ে ঝামেলা তৈরি হয়েছে। আমি নাকি কাজ পাওয়ার জন্য এটা সেটা বলছি। তাই ইচ্ছে করেই এবার আসবো না।’ এই তারকা বলেন, ‘কাজ করে আমার সংসার চালাতে হয় না। কাজটা আমার অনেক ভালোবাসার বিষয়।’
ফারিয়া বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম মিডিয়াতে। মিডিয়া এবং কাজ দুটোকেই আমি ভালোবাসি। কিন্তু এখানে কোনো নোংরামি ভালোবাসি না।’
ফারিয়া শাহরিন ছোটপর্দার পরিচিত মুখ। ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ ২০০৭ সালে প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছিলেন তিনি। বাংলালিংকের ‘কথা দিলাম’ বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন প্রথম। এরপর অনেকগুলো দর্শকনন্দিত নাটকে কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, ফারিয়া ‘আকাশ কত দূরে’ সিনেমাতেও কাজ করেছিলেন। ২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি।
বর্তমানে ফারিয়া উচ্চশিক্ষার জন্য মালয়েশিয়ার এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়া মার্কেটিং-এ পড়ছেন। জানালেন, ‘এ বছরই লেখাপড়া শেষ হবে।’
তবে দেশে ফিরে যদি শোবিজেই কাজ করেন, তবে নিজের যোগ্যতা দিয়েই ফিরবেন জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন: আমি দেশে যখন ফিরবো, তখন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে কাজ করতে চাই এর আগে না। যোগ্যতা দিয়ে দিয়ে কাজ করতে চাই। আর মিডিয়ার মানুষ যাতে আমাকে ভুল না বোঝে এটাই চাওয়া থাকবে।
ছবি: জিয়া উদ্দিন







