গত ফেব্রুয়ারিতে দুবাইয়ের ডালো পরিবহন পরিচালিত একটি বিমান সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে উড্ডয়ন করার কিছুক্ষণের মধ্যে বিস্ফোরিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আটটি দেশের বিমানের যাত্রীদের কেবিন ব্যাগে ল্যাপটপ, ট্যাবলেটসহ যাবতীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিদেশি যাত্রীদের ওপর গোয়েন্দা সংস্থার সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ সিদ্ধান্ত দ্রুত উঠে এসেছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের বরাতে বিবিসি, সিএনএন জানিয়েছে: এ সিদ্ধান্তের কারণে ১০টি এয়ারপোর্টের নয়টি এয়ারলাইন্সে বিষয়টি কার্যকর হতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্তের আওতায় কোন কোন এয়ার লাইন্স আসবে তা এখনো জানানো হয়নি।
এ সিদ্ধান্তের আওতায় বিমানের কোনো যাত্রী তাদের হাত ব্যাগে (হ্যান্ড লাগেজ) করে বড় ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, ক্যামেরা, ডিভিডি প্লেয়ারের মতো ডিভাইসগুলো নিয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন না। তবে মুঠোফোন বা স্মার্টফোন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মঙ্গলবার এ বিষয়ে তাদের ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে নর্থ আমেরিকার ফ্লাইটগুলোতে বড় ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করতে দেয়া হবে না বলে সোমবার রয়্যাল জর্ডানিয়ান এয়ারলাইন্স এক টুইট বার্তায় জানায়। পরে অবশ্য তারা টুইট বার্তাটি মুছে ফেলে।
গত ফেব্রুয়ারিতে দুবাইয়ের ডালো পরিবহন পরিচালিত একটি বিমান সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে ওড়ার পরেই বিস্ফোরিত হয়।
তখন তদন্তকারীরা বলেছেন ওই বিমানের একজন যাত্রী ল্যাপটপ বোমা বহন করছিলেন। যিনি বিমানটি বিস্ফোরণের আগে বের হয়ে যেতে সক্ষম হন। বিমানের পাইলটরা ওই বিমানটি নিরাপদে নিচে নামাতে পারলেও বিমানটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বোমার ট্রিগার বহনকারী বিমান থেকে অনেক দূরে চলে যাওয়ায় বিমানটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলো।
আল কায়েদার সহযোগী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল শাবাব এই হামলার দাবি করে এবং পরবর্তীতে এরকম আরো ঘটনা ঘটানোর হুমকি দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
গোয়েন্দাদের বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে কোনো ধরনের তথ্য প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেছে মার্কিন সরকার।







