‘অশিক্ষা দেশের জন্য অভিশাপ। অশিক্ষিত মানুষ দেশের উন্নয়নের পথে বাধা।
অশিক্ষিত মানুষের হাতে দেশ পড়লে কি হয় তা তো সারা দেশের মানুষই জানে।’
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আবেদন আজও অটুট আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাঙালির বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতার এই ভাষণের দিকনির্দেশনাই ছিল সে সময় বজ্রকঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। অসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অমিত শক্তির উৎস ছিল এ ঐতিহাসিক ভাষণ।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তেমনি আরেকবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে রূপকল্প-২০২১ এবং রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করি। ঐতিহাসিক ৭ মার্চে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
ঐতিহাসিক এ ভাষণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ই মার্চের ভাষণ শুধু একটি ভাষণই ছিলো না। এটি ছিলো একটি দেশকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা। সেই ভাষণকেই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেয় খালেদা জিয়া। তখন আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনেক কষ্ট করে মহল্লায় মহল্লায় এই ভাষণ শোনান। জীবনের ঝুঁকি নেন তারা, অনেককে জীবন দিতেও হয়। কিন্তু ৭ই মার্চের ভাষণ আজ বিশ্বস্বীকৃত। সারা বিশ্বে যে আড়াই হাজার ভাষণ রয়েছে যেগুলো মানুষকে উজ্জীবিত করেছে ও প্রনোদনা দিয়েছে এই ভাষণ তার মধ্যে অন্যতম। এরই মধ্যে আমরা ১২টি ভাষায় ভাষণ অনুবাদ করেছি। নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে আরো অনেক ভাষায় করা হবে।
জিয়ার শাসনামলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখন অবৈধ ছিলো। অবৈধ একটি সরকারের কাছ থেকে দেশ আর কি পেতে পারে? খালেদা জিয়ার জন্মও এদেশে না। তাই মাটির প্রতি টানও তার কম। তারতো জন্ম ভারতে আর প্রিয় দেশ তার ‘পেয়ারে পাকিস্তান’।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিক্ষাই পারে দেশকে ক্ষুধামুক্ত ও দরিদ্রমুক্ত হিসেবে
গড়ে তুলতে। দেশের দায়ভার এখন তরুণ সমাজের হাতে। তরুণ সমাজ নিজেদের সৎ ও
কঠোর পরিশ্রমী হিসেবে গড়ে তুলবেন। তারা কাজে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ
রাখবেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজেদের জীবন সাজাবেন। বঙ্গবন্ধু শুধু
স্বাধীন দেশের কথাই বলেননি তিনি অর্থনৈতিক মুক্তির কথাও বলেছেন। সেই
চেষ্টাই আমরা এখন করে যাচ্ছি।’
খেলাধুলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা খেলাধুলাতেও অনেক এগিয়েছি। এশিয়া কাপে আমরা রানার আপ হয়েছি। নিশ্চয়ই একসময় আমরা সেই উচ্চতায় পৌঁছাবো। এখন আর বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখার চিন্তা করে না।







