প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৭১ এবং ৭৫ এর খুনিদের মধ্যে কোনো তফাত নাই। বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশনে ৭ মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব বলেন। ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ: রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামো পরিবর্তনের দিগদর্শন’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতার যে অবদান এবং ভাষা আন্দোলনটা যে তিনিই প্রথম শুরু করেছিলেন। এই বিষয়টা এক এসময় সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়েছিলো। অনেকেই বলতেন, উনি (বঙ্গবন্ধু) আবার ভাষা আন্দোলন কিভাবে করেছেন উনি তো জেলেই ছিলেন। মানে জেলে থাকার কারণে যেন তিনি ভাষা আন্দোলনে কোনো অবদানই রাখেননি। কিন্তু সেই ৪৮ সাল থেকে তিনিই যে ভাষা আন্দোলনটা শুরু করলেন সে, কথাটা অনেকেই মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। ঠিক একইভাবে আমরা যদি ৭৫ থেকে ৯৬ পর্যন্ত দেখি। তখনও ওই এখই ঘটনা দেখি।
নতুন প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত ছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত ছিলো। ৭৫ এ জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার করার পর আমাদের জাতীয় ইতিহাস যে বিকৃত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চে ভাষণ নিষিদ্ধ ছিলো, তার নামটাও নিষিদ্ধ ছিলো, তার ছবি নিষিদ্ধ ছিলো। একটি প্রজন্ম ৭৫-৯৬ ২১টি বছর এদেশের মানুষ কিছুই জানতে পারেনি। যাদের বয়স আজকে চল্লিশ-পঞ্চাশ তারাও সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হয়েছিলো।
তিনি বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্যেই আপনারা ইতিহাস পাবেন। মূলত ভাষণটি ছিলো ২৩ মিনিটের। আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো সে সময় মাঠে উপস্থিত ছিলাম। মঞ্চের সামনে নয়, ঠিক পাশেই। যেটা রেকর্ড করা হয়েছিলো সেটা ১৮/১৯ মিনিটের রেকর্ড। সেই ভাষণে বাংলাদেশের জনগণের সেই ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস তাদের সেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতি সংগ্রামে রক্ত দেয়ার ইতিহাস, সবকিছু বিবৃত করে ভবিষ্যতে কি করতে হবে অর্থাৎ একটা গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি কিভাবে নিতে হবে এমনকি তিনি যদি না থাকতে পারেন বা হুকুম দিতে নাও পারেন তখন কি করতে হবে সে কথাগুলোও তিনি বলে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে যে আন্দোলন সংগ্রাম এবং তিনি যে এদেশকে স্বাধীন করতে চান। সন্তান হিসেবে পরিবারের সদস্য হিসেবে এ কথা আমরা সব সময় উপলদ্ধি করতে পারতাম। কিন্তু আমাদের উপর নির্দেশই ছিল এ কথা আমরা বলতে পারবো না। বঙ্গবন্ধু প্রতিটি ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে গেছেন। ছয় দফা দেয়ার পরে তার জীবনের উপর অত্যাচার নেমে এলো। তিনি কিন্তু থেমে থাকেননি। তখন একটা ষড়যন্ত্র ছিলো তাকে ফাঁসি দিয়ে মেরে ফেলা হবে। বাংলাদেশের মানুষ বসে থাকেনি। তিনি কখনো বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে চাননি। যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ তারা কখনো বিচ্ছিন্নাবাদী হতে পারে। আমরা ওদেরকে বিদায় দেবো। আমাদের পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত, এই ভূ-খন্ডের নাম বাংলাদেশ হবে তাও তিনি ঠিক করেছেন। জাতীয় সঙ্গীত যে আমার সোনার বাংলা এই সিদ্ধান্তও তিনি অনেক। জয়বাংলা স্লোগান এই স্লোগান মাঠে নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো ছাত্রলীগকে, যে তোমরা এই স্লোগানটিকে মাঠে নিয়ে যাও।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাসহ উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশুরা হোসেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা এবং সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ. আরাফাত।








