মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে পড়েছে দীপঙ্কর দীপনের পরিচালনায় ‘ঢাকা অ্যাটাক’। প্রথম সপ্তাহে ১২৭, দ্বিতীয় সপ্তাহে ১২৮, তৃতীয় সপ্তাহে ৩৭ আবার চতুর্থতে এসেও সমান আগ্রহ ধরে রখে ৪০ সিনেমা হলে চলছে চলচ্চিত্রটি। দেশের বাইরেও চলছে। আগামী কাজ ও সিনেমার নানা বিষয় নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন পরিচালক দীপঙ্কর দীপন।
চ্যানেল আই অনলাইন: চতুর্থ সপ্তাহেও ৪০টি সিনেমা হল?
দীপঙ্কর দীপন: দারুণ অনুভূতি। সব কৃতিত্ব দর্শকদের। বিশেষ করে নতুন দর্শকদের। তরুণ দর্শকদের। তবে দায়িত্বের চাপও অনুভব করছি।
চ্যানেল আই অনলাইন: কিসের চাপ? পরবর্তী কাজ মানে ‘ঢাকা অ্যাটাক এক্সট্রিম’ এর প্রত্যাশার চাপ?
দীপঙ্কর দীপন: সে তো বটেই। এই কাজের থেকে ১০ ভাগ ভালো হলেও দর্শক রাগ করবে। অন্তত এই কাজের চাইতে শতকরা ৪০ ভাগ হলেও ভালো হতে হবে। কিন্তু সেটাতো ২০১৯। আমার সৌভাগ্য একটা দারুণ টিম পেয়েছি। ইতিমধ্যে গল্পের গবেষণা চলছে। তবে ২০১৮ তে নতুন একটি চলচ্চিত্র করতে চাই।
চ্যানেল আই অনলাইন : তাহলে ঢাকা অ্যাটাক এক্সট্রিম’ হবে আপনার তৃতীয় সিনেমা পরিচালনা? দ্বিতীয় চলচ্চিত্রের বিষয় কি রোমান্স?
দীপঙ্কর দীপন: অনেকটা তাই। গল্প লেখার কাজ চলছে। প্রযোজকের সঙ্গেও কথা চলছে। এখন একটা সুবিধা একটু তৈরী হয়েছে, যে কোন প্রযোজকের কাছে যেতে পারছি। গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। আমি থ্রিলারের বাইরে নিজেকে দেখতে চাই। অবশ্যই প্রেম তবে যে প্রেম আমি দেখাতে চাই। ‘বারফি’ও কিন্তু প্রেমের চলচ্চিত্র। কিন্তু ভিন্ন আঙ্গিকে প্রেম তুলে ধরা হয়েছে। মাখোমাখো কিছু নয়। অনুরাগ একটা কথা সব সময় বলত তোমার যেটা ভালো লাগবে, যা বিলিভ করবা সেটাই করবা। আমি আমার বিশ্বাসের এবং ভালো লাগার বাইরে কিছূ করি না। দ্বিতীয় চলচ্চিত্রের বিষয় অবশ্যই রোমান্স ক্যাটাগরির, কিন্তু আমার ভাবনায় যে প্রেম ধরা দেয় সেরকম।
চ্যানেল আই অনলাইন: একটা ধারণা অনেক দিন ধরেই রয়েছে, টেলিভিশনের নির্মাতারা সিনেমায় সফল হয় না। কোথায় যেন টেলিভিশনের নির্মাণভঙ্গী থেকে যায়! আপনি সেই ধারণায় বড় আঘাত এনেছেন।
দীপঙ্কর দীপন: বিষয়টি এভাবে ভাবা ঠিক না। সিনেমায় মূল জায়গা হল স্টোরি টেলিং। আমি কি বলতে চাই। টেলিভিশন থেকে আমার আগেই অনেক নির্মাতা এ ভুল ধারণা ভেঙ্গেছেন। গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ কে আপনি কি বলবেন, কিংবা অমিতাভ রেজার ‘আয়নাবাজি’ বা ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ অথবা অনিমেষ এর ‘জিরো ডিগ্রী’। সবগুলোই চলচ্চিত্র। তবে আমার কাছে মনে হয় ৭০ মিনিট আর ১৪০ মিনিট ডিল এক নয়। মূল কথা কি, একটা সিনেমার জন্য ৭-৮টা বড় এলিমেন্ট একসঙ্গে মার্চ করলে দর্শকও মার্চ করে। এই এলিমেন্ট ডিস্ট্রিবিউশনটা জরুরী।
চ্যানেল আই অনলাইন: চলচ্চিত্র পরিচালনা, মুক্তি এবং সাফল্য শেষে দেশের চলচ্চিত্র বাজার সম্পর্কে কী ধারণা হল?
দীপঙ্কর দীপন: আমার কাছে বাজার যথেষ্ট ভালো মনে হয়েছে। তবে মনে হয়েছে আগামী তিন বছরে যেন আর কোন সিঙ্গেল স্ক্রিন বন্ধ না হয়। পাশাপাশি ২০টি মাল্টিপ্লেক্স যদি তৈরী হয় সারা দেশে তবে মাল্টিপ্লেক্স থেকেই বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর আমার কাছে মনে হয়েছে, একটা সিনেমা প্রদর্শনের পর প্রোডিউসারের কাছে যে অংশটা আসে তা যথেষ্ট নয়। তার ন্যায্যপাওনা পাওয়া উচিত। কারণ প্রযোজক বাঁচলে সিনেমাও বাঁচবে। সিনেমার রেভিনিউ ডিস্ট্রিবিউশনের সমতা আনা উচিত।
চ্যানেল আই অনলাইন: শুধু মাল্টিপ্লেক্স হলেই হবে? সিঙ্গেল স্ক্রিন দরকার নেই? মাল্টিপ্লেক্স এর দর্শকতো সবাই না?
দীপঙ্কর দীপন: দেখুন, আপনি আমি জেলা শহরের বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের দর্শকের যে রুচি ভাবছেন তা কিন্তু বদল হয়েছে। এটা আমার বিশ্বাস। মানুষের চোখ উন্নত হয়েছে। সিঙ্গেল স্ক্রিন এখন লেস বেনিফিট ক্যারি করে। সিনেমা শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক না করে ছড়িয়ে দিতে হবে। আপনি চিন্তা করেন ৫টি বিভাগীয় শহরে যদি মাল্টিপ্লেক্স হয় ঢাকারগুলোসহ সবগুলো সিনেপ্লেক্সসহ এ সব সিনেপ্লেক্স থেকে বাজেট উঠে আসবে। আর যেসব সিঙ্গেল স্ক্রিন আছে সেগুলো বাণিজ্যিক বাস্তবতাতেই নিজেদের বদলে নেবে, দেখে নিয়েন।
চ্যানেল আই অনলাইন: টেলিভিশনের দর্শকরা কি দীপঙ্কর দীপণকে আর পাবে না?
দীপঙ্কর দীপন: আমি আসলে অনেকটা অলস প্রকৃতির। ঢাকা অ্যাটাক শুরুর আগে একটা টেলিভিশনে কাজ করতাম। নাটক, বিজ্ঞাপনের কাজ করতাম। আমি কেবল সিনেমা করতে চেয়েছি। তাই আপাতত টেলিভিশনে ফেরা হচ্ছে না। নভেম্বর-ডিসেম্বর জুড়ে বিদেশে ঢাকা অ্যাটাক আরো বেশি বাঙ্গালির কাছে নিয়ে যেতে চাই। ২০১৮ তে দ্বিতীয় সিনেমা। ১৯ এ এক্সট্রিম।








